মিরপুরে রাস্তার পাশ থেকে রক্তাক্ত এক কিশোরী উদ্ধার! রাতভর গনধর্ষণের সাথে হারিয়েছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- টাঙ্গাইল থেকে প্রেমিক সজীবের ডাকে ঢাকায় আসে এক কিশোরী। কিন্তু প্রেমিকের সামনে গিয়ে বুঝতে পারে সে চরম ভুল করেছে।
ওই প্রেমিক প্রথমেই তার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার কেড়ে নেয়। তারপর গাড়িতে তুলে দেয়ার নামে শাকিল নামে অপর যুবক তাকে কৌশলে একটি হোটেলে নিয়ে তোলে। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে কয়েক যুবক। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মিরপুরের দারুস সালামে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় তারা।

প্রেমিকের বিয়ের আশ্বাসে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা ওই কিশোরীকে রাজধানীর মিরপুরে রাস্তার পাশ থেকে রক্তাক্ত এক কিশোরীকে (১৬) উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। কয়েকজন যুবক একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করার পর তাকে সেখানে ফেলে রেখে যায়। বর্তমান ওই কিশোরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বাড়ি টাঙ্গাইলে। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী কমপ্লেক্সের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে।

সাজ্জাদ হোসেন নামের একজন নিরাপত্তারক্ষী সূত্রে জানাগেছে, মেয়েটি একটি বেঞ্চের নিচে পড়ে ছিল। লোকজন তাকে ঘিরে রেখেছিল। কাছে গিয়ে দেখতে পান সে রক্তাক্ত। এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডেকে আনেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা না দিলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসা না দিলে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। থানার এক পুলিশ সদস্য হাসপাতালে আছেন।
প্রাথমিকভাবে মেয়েটি জানিয়েছে, এক ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে সে। এরপর বাড্ডা এলাকায় একটা জায়গায় বসতে বলে সে চলে যায়। আর ফিরে আসেনি। তার সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণও সে নিয়ে যায়। এরপর এক ছেলে এসে গাজীপুরে তার এক দূর সম্পর্কের দুলাভাইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে কোনো একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে সে।

ওসি বলেন, মেয়েটি অসুস্থ হওয়ায় ঠিকমতো কথাই বলতে পারছে না। সুস্থ হওয়ার পর তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হবে। এরপর কী করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।