রাম রহিমের সঙ্গে যৌনতার বিষয়ে অবশেষে মুখ খুললেন হানিপ্রীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- রাম রহিমের সঙ্গে তাঁর পিতা-পুত্রীর সম্পর্ক, জেরায় জানালেন হানিপ্রীত। উল্টে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন নিজের স্বামীকেই। স্বামীর করা অভিযোগকে অস্বীকার করে হানিপ্রীত বলেন, “আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, একজন কীভাবে কোনও প্রমাণ ছাড়াই একজন পিতা এবং পুত্রীর সম্পর্কে আঙুল তুলছেন।”

ডেরা সচ্চা সওদা প্রধান রাম রহিম সিংয়ের সাজা ঘোষণার ৩৮ দিন পর হরিয়ানা পুলিসের জালে ধরা পড়েছেন ধর্ষক ‘বাবা’র দত্তক কন্যা হানিপ্রীত। রাম রহিমের দত্তক কন্যা হানিপ্রীতের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা এবং দাঙ্গা সংগঠিত করার মত মারাত্মক অভিযোগ এনেছে পুলিস। আর হানিপ্রীতকে গ্রেফতার করার পরই তাঁকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে হরিয়ানা পুলিস। রাত ৩ টা পর্যন্ত চলে জেরা।

এরপর পুলিস আধিকারিকদের কাছে হানিপ্রীত জানান, তাঁর বুকে ব্যাথা করছে। এটা জানার পরই পুলিস তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তাররা জানিয়েছে, হানিপ্রীত এখন সুস্থ।

সূত্রের খবর, মূলত পঞ্চকুলার সংঘর্ষ নিয়েই হানিপ্রীতকে বারেবারে প্রশ্ন করেন পুলিস আধিকারিকরা। তদন্তকারী অফিসারদের প্রশ্নবানের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করে হানিপ্রীত বলেন, “বিধ্বস্ত এবং বিষণ্ণ”।

রাম রহিমের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, “পাপা চলে যাওয়ার পর থেকেই আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে, আমার গোটা জগৎ গুঁড়িয়ে গেছে।” একই সঙ্গে রাম রাহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সাজাকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কোটি কোটি মহিলার ক্ষমতায়ন হয়েছে বাবার জন্য। সেখানে কোটি কোটি মহিলার কথা না মেনে কেবল দু’জন অভিযোগকারীর কথাই কেন বিশ্বাস করা হচ্ছে?”

রাম রহিমের সাজা ঘোষণার পর হানিপ্রীতের সাবেক স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত অভিযোগ করেন, রাম রহিমের সঙ্গে হানিপ্রীতের শারীরিক সম্পর্ক ছিল। চোখের সামনের তিনি বাবা ও হানিপ্রীতকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেন। এ খবর ফাঁস না করতে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেন রাম রহিম।

হানিপ্রীতের ইনসানের আগে নাম ছিল প্রিয়াঙ্কা তানিজা। রাম রহিম তাঁকে পালিত কন্যা হিসেবে পরিচিতি দেন। এরপরই তাঁর নাম পরিবর্তন করা হয়। রাম রহিমের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন হানিপ্রীত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেত। কথিত বাবার সঙ্গে একাধিক ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি।

গত ২৫ আগস্ট রাম রহিমকে তাঁর ডেরা সাচা সৌদার দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইর বিশেষ আদালত। বর্তমানে তিনি হরিয়ানা রাজ্যের রোহতাক জেলার সোনারিয়া কারাগারে বন্দি আছেন।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি