বিয়ের আগের দিন বর নিখোঁজ, সন্ধান মেলেনি এক সপ্তাহেও

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, আত্মীয় স্বজনের আগমন বাড়িতে, রাত পোহলেই বর কনের দেখা হবে এমন সময় আগের দিন বর নিখোজ।বন্ধ হয়ে গেল বিয়ে। এক সপ্তাহেও সন্ধান না পাওয়ায় বরের পরিবার বিপাকে পড়েছে।

বর নিখোজের এই ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ সেপ্টম্বর বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া গ্রামে। বরের নাম ইউসুফ আলী (৩০), তার পিতার নাম আব্দুল্লাহেল কাফী। সে বাসাইল উপজেলার টেঙ্গুরিয়াপাড়া ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক।

সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে ইউসুফের বিয়ে ঠিক হয় জামালপুর জেলা সদরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম মিয়ার কন্যার সঙ্গে (গত ২৯ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার ছিল বিয়ের দিন।

এ উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউসুফের বড় ভাই ইব্রাহীম তক্তারচালা বাজার থেকে মোবাইর ফোনে কথা বলে ইউসুফকে বাজারে যাওয়া জন্য। ইউসুফ বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্ধায় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খুজতে শুরু করে।

২৪ ঘন্টায় তার কোন খোজ না পেয়ে শুক্রবার তার বড় ভাই ইব্রাহীম মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করে। ইইসফি আলী নিখোজের এক সপ্তাহ পার হলেও কোন খোজ না পাওয়ায় পরিবারের লোকজন চরম বিপাকে পরেছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ইউসুফের বড় ভাই ইব্রাহীমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এক সপ্তাহেও ইউসুফের কোন খোজ না পেয়ে আমরা পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন। তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও আমরা কিছু বলতে পারছিনা।

ইউসু আলীর কর্মস্থল টেঙ্গুরিয়া ফাজিল মাদরাসার সুপার এ এফ এম করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ইউসুফকে আমরা ভাল ছেলে হিসেবেই জানি। সে কোন সমস্যায় আছে কিনা তা কখনো আমাদের কাছে বলেনি। তার আকস্মিক নিখোজের খবরটি আমাদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইউসুফের ভাই ইব্রাহিম বাদী হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেছে।

তাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা যায়, সে নিজেই আতœগোপন করে থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।