নোয়াখালীতে চেয়ারম্যান কর্তৃক বিচার প্রার্থী নারীকে ধর্ষণ : থানায় মামলা

নোয়াখালীর প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলার ২নং চরবাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী এক নারীকে রাতভর ইউপি কার্যালয়ে আটক রেখে উপর্যপুরি ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্ষিতা নিজে বাদি হয়ে চরজব্বার থানায় ধর্ষনের মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চরবাটা ইউনিয়নের এক স্বামী পরিত্ত্যক্তা নারীর (২৬) সাথে হাতিয়ার ভূমিহীন বাজারের আফসারের ছেলে রবিউল হোসেনের (৩০) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বুধবার সন্ধ্যায় রবিউল ওই নারীর বাড়িতে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে চেয়ারম্যান মোজাম্মেলকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন আটককৃত রবিউল ও অভিযুক্ত নারীকে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। পরে স্থানীয় চৌকিদার নবীর নেতৃত্বে তাদেরকে রাত ১১ টার দিকে চরবাটা ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।
এদিকে মোজাম্মেল চেয়ারম্যান রাতেই ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে রবিউলের সাথে থাকা নারীকে আলাদা অন্ধকার একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর আটক রেখে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা সবাইকে জানিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়ায় ক্ষিপ্ত চেয়ারম্যান রাতেই ওই নারীকে বেদম প্রহার করে রক্তাক্ত জখম করেন।
সকালে ইউপি কার্যালয়ের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নির্যাতিতা ওই নারী চরজব্বার থানায় গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। এতে প্রেমিক রবিউল হোসেনকেও আসামী করা হয় ( মামলা নং ০৪, তারিখ- ০৫ অক্টোবর ২০১৭ইং)।
এ ব্যাপারে চরবাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে মোবাইল ফোনে জানান, ছেলে ও মেয়েকে বিচারের জন্য রাতেই ইউপি কার্যালয়ে আনা হলেও তিনি রাতে সেখানে যান নাই। এছাড়া ওই নারীকে মারধরের অভিযোগও ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষরা তাকে ফাঁসানোর জন্য ওই নারীকে দিয়ে থানায় ‘মিথ্যা’ অভিযোগ দায়ের করিয়েছে।
এদিকে ধর্ষিতার বড়বোন হাজেরা বেগম (২৮) জানান, আমার বোন ও রবিউলকে রাত ১১টার দিকে ইউপি কার্যালয়ে নেয়ার কিছুক্ষণ পর মোজাম্মেল চেয়ারম্যান এসে উপস্থিত সবাইকে গালিগালাজ করে পরিষদ থেকে বের করে দেন। তিনি আরও বলেন, আমরা সারা রাত পরিষদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। চেয়ারম্যান আমার বোনকে আটকে রাখা অন্ধকার কক্ষে ঢুকার পর বোনের চিৎকারও শুনতে পেয়েছি। হাজেরা দাবি করেন, গভীর রাতে পরিষদের একটি কক্ষে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল মদ, গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করে তার বোনকে উপর্যপুরি ধর্ষণ করেছেন।
চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) ইকবাল হোসেন জানান, নির্যাতিতার দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। আসামি রবিউলকে আটক করা হয়েছে। আপরদিকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোজাম্মেলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত; এরআগে চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গ্রাম্যসালিশী বৈঠকের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় মধ্যচরবাটা গ্রামের ছায়েদুল হকের বাড়ির দিন মজুর মো. হানিফের মেয়ে স্কুলছাত্রী রাবেয়া বেগম তার বাবা মো. হানিফ (৫০), মা খতিজা খাতুন (৪০) ও খালা শামছুর নাহারকে (৩৫) এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলের আন্দোলনের পর মামলা হলে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এ চেয়ারম্যান