৮শ’ কোটি টাকা খরচে আরো দুটি রণতরী নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর: চীনের কারিগরি সহযোগিতায় খুলনা শিপইয়ার্ড আরো দুটি রণতরী নির্মাণ করেছে। আর এ জন্য সময় লেগেছে মাত্র ২৪ মাস। আগামী মাসে এই নতুন দুটি রণতরীর কমিশন হবে বলে জানা গেছে।

প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ আগামী ৮ নভেম্বর খালিশপুর নৌঘাঁটি তিতুমির-এর জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধজাহাজ দু’টি নৌবাহিনীতে যুক্ত করবেন।

স্থানীয় মুদ্রায় আটশ’ কোটি টাকা খরচে নির্মিত রণতরী দুটির নাম দেয়া হয়েছে ‘নিশান’ ও ‘দুর্গম’। এছাড়া দুটি সাবমেরিন টাগবোট ‘হালদা’ ও ‘পশুর’ নির্মাণ করা হয়েছে ১৪২ কোটি টাকায়।

সূত্র জানায়, ভৌরব ও পশুর নদীতে নবনির্মিত যুদ্ধজাহাজ দু’টির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। সমুদ্রে কার্যক্ষমতা পরীক্ষার জন্য গত মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বঙ্গোপসাগরে যাত্রা করে দুর্গম। শুক্রবার (৬ আগস্ট) নিশান-এর সমুদ্রযাত্রা শুরু হওয়ার কথা।

খুলনা শিপইয়ার্ডের জিএম (উৎপাদন) ক্যাপ্টেন এম নুরুল ইসলাম শরিফ জানান, যুদ্ধজাহাজগুলো বিদেশে নির্মাণ করতে গেলে ১,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হতো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চল নিরাপদ করার জন্য নৌ বাহিনীর এসব যুদ্ধজাহাজ খুবই প্রয়োজন। তাছাড়া সম্পদ আহরণ ও সঠিক সমুদ্র ব্যবস্থাপনার জন্যও এগুলো প্রয়োজন।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ জাহাজগুলো নির্মাণ শুরু হয়। প্রতিটি জাহাজ ৬৪.২ মিটার দীর্ঘ ও ৯ মিটার প্রশস্ত। এগুলোর ঘন্টায় গতিবেগ ২৫ নটিক্যাল মাইল। চীনের কারিগরি সহযোগিতায় যুদ্ধজাহাজগুলো তৈরি করা হয়।

এছাড়া ৩২ মিটার দীর্ঘ টাগবোটগুলো আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এগুলো তৈরি হয় মালয়েশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এর আগে আরো পাঁচটি যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করেছে।

১৯৫৭ সালে এই শিপইয়ার্ডের যাত্রা শুরু হয়। এটি পরিচালনার জন্য ১৯৯৯ সালে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ পর্যন্ত এই শিপইয়ার্ড ৭২৫টি জাহাজ নির্মাণ ও ২,২২৪টি নৌযান মেরামত করেছে।