উত্তর ইরাকের সঙ্গে তুরস্কের সীমান্ত ও আকাশপথ শিগগিরই বন্ধ করে দেয়া হবে: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কুর্দি স্বাধীনতার গণভোটের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর ইরাকের সঙ্গে তুরস্কের সীমান্ত ও আকাশপথ শিগগিরই বন্ধ করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী আঙ্কারায় এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এরদোগান এই ঘোষণা দেন।

এর আগে বুধবার বিষয়টি নিয়ে তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এরদোগান বলেছিলেন, উত্তর ইরাকের কুর্দিদের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে তার দেশ ইরান ও ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিদের স্বাধীনতার গণভোটের ১০ দিন পর এরদোগান এই মন্তব্য করেন। এই গণভোটে ইরাকের প্রতিবেশি বাগদাদ এবং পশ্চিমা শক্তিরা অত্যন্ত শঙ্কিত। তাদের আশঙ্কা এটি মধ্যপ্রাচ্যে আরো বেশি সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

এই গণভোটের পরপরই তুরস্ক ইরাকের সঙ্গে তার প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উত্তরাঞ্চলীয় ইরাকের সঙ্গে বিমানের সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত রাখে। এছাড়াও দেশটি তার সীমান্ত এলাকায় ইরাকি সৈন্যদের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া দেয়।

তবে দেশটি এখনো পর্যন্ত কুর্দি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে হুমকি দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করেনি কিংবা কুর্দি তেলের রপ্তানি বন্ধ করে দেয়নি।

উল্লেখ্য, প্রতি দিন হাজার হাজার ব্যারেল কুর্দি তেল তুরস্ক হয়ে বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

এরদোগান বলেন, ‘উত্তর ইরাক থেকে বিমান যাত্রা ইতোমধ্য স্থগিত করা হয়েছে। আকাশ পথ এবং সীমান্ত শিগগিরই বন্ধ করে দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে তুরস্কের সঙ্গে উত্তর ইরাকের কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের পর গণভোট আয়োজনের এই সিদ্ধান্ত তাদের (কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের) ‘নিখুঁত অকৃতজ্ঞা’ প্রকাশ পেয়েছে।’

এর আগে ইরান সফর আঙ্কারায় ফিরে তুর্কি সংবাদমাধ্যমকে এরদোগান বলেছিলেন, কুর্দিদের তেল রপ্তানির পাইপলাইন বন্ধ করা হবে কিনা সে ব্যাপারে আঙ্কারা, তেহরান ও বাগদাদ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরো বলেছিলেন যে, কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, ‘উত্তর ইরাকি নেতৃত্ব গণভোটের ফলাফলে মাতাল হয়ে গেছে। তারা এতটাই উন্মাদ হয়ে গেছে যে, বুঝতে পারছে না তারা কি করছে বা কি ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

গণভোটে তেল সমৃদ্ধ শহর কিরকুককে অন্তর্ভুক্ত করার সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, ‘সেখানে কুর্দিদের কোন বৈধতা নেই এবং তারা এই অঞ্চলে দখলদার শক্তি।’

বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, তুরস্ক উত্তর ইরাকের বিরুদ্ধে আরো পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে এবং দুই নেতা কুর্দিদের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।