উইকেট খরায় ধুঁকছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক: বাংলাদেশের সামনে আবারও বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনিং জুটি ডিন এলগার ও অ্যাইডেন মারক্রাম। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে কোনো ধরণের হুমকিই তৈরি করতে পারছেন না বাংলাদেশের বোলাররা। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম টেস্টের মতই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করছে স্বাগতিকরা। দিনের এক ভাগ কেটে গেলেও সফরকারীদের কোনো ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারেনি টাইগার বোলাররা।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৭ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান বিনা উইকেটে ২১৮। ১০৭ রানে খেলছেন এলগার, ১০৬ রানে মারক্রাম।

ব্লুমফন্টেইনে টাইগারদের নির্বিষ বোলিংকে কাজে লাগিয়ে বিনা উইকেটে ১২৬ রান নিয়ে প্রথম দিনের লাঞ্চে যায় ফাফ ডু প্লেসিসের দল। লাঞ্চের পরও কোনো সুখবর নেই বাংলাদেশের। আগের টেস্টে দুজনের জুটি থেমেছিল ১৯৬ রানে। কোনো বোলার নয়, জুটি ভেঙেছিল রান আউটে। এবার এলগার ও মারক্রাম ঠিকই গড়লেন দুইশ রানের জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকা সবশেষ দুইশ রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়েছিল ২০০৮ সালের জুলাইয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে ২০৪ রানের জুটি গড়েছিলেন গ্রায়েম স্মিথ ও নিল ম্যাকেঞ্জি।

যেন প্রতিযোগিতা চলছিল, কে আগে ছুঁতে পারেন সেঞ্চুরি। বেশ কিছুটা এগিয়ে থেকে আগে অর্ধশতক করেছিলেন এলগার। আশির আগেই আবার তাকে ছাড়িয়ে যান মারক্রাম। শেষ পর্যন্ত টানা দুই বলে বাউন্ডারিতে আগে সেঞ্চুরি ছুঁলেন সেই এলগারই। সেঞ্চুরি করছেন তিনি ওয়ানডের গতিতে, ১১৬ বলে। তবে খুব আক্রমণাত্মক বা উদ্ভাবনী শট খেলতে হয়নি। বাংলাদেশের বোলারদের বাজে বোলিংয়েই সহজ হয়েছে তার কাজ। ৪১ টেস্টে এলগারের দশম সেঞ্চুরি। চলতি সিরিজে দ্বিতীয়। প্রথমবার বছরে হাজার রান ছোঁয়ার ইনিংসটি স্মরণীয় করে রাখলেন সেঞ্চুরিতে।

অ্যাইডেন মারক্রাম অভিষেকে ৯৭ রানে রান আউটের হতাশা হয়ত তাকে ছুঁয়ে যাবে ক্যারিয়ার জুড়েই। তবে প্রথম সেঞ্চুরির জন্য খুব একটা অপেক্ষা করতে হলো না এইডেন মারক্রামকে। দ্বিতীয় টেস্টেই পেয়ে গেলেন কাঙ্ক্ষিত প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির অনির্বচনীয় স্বাদ! রুবেলকে টানা দুই বলে চার মেরে সেঞ্চুরি পৌঁছালেন ১৪১ বলে। ইনিংস বাউন্ডারি ১৬টি। দক্ষিণ আফ্রিকার ভবিষ্যতের ভরসা জানিয়ে দিলেন, তিনি প্রস্তুত ‘বর্তমান’ হয়ে উঠতেই।

পচেফস্ট্রুম টেস্টে বাংলাদেশি বোলারদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মুশফিকুর রহিম সেটা স্বীকারও করেছেন। আর তাই বাদ পড়তে হলো প্রথম টেস্টের চার বোলারদের মধ্যে তিনজনকে। চারটি পরিবর্তন নিয়ে ব্লুমফন্টেইনে শুক্রবার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের মিশনে নেমেছে বাংলাদেশ। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। পিচের কন্ডিশন বিবেচনায় হয়তো লক্ষ্য ছিল প্রথম সেশনে কিছু করে দেখানো। কিন্তু আগের টেস্টের মতো প্রতিরোধ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন দুই ওপেনার। এই দুই ব্যাটসম্যানকে ঠেকাতে চেষ্টা করছেন দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, শুভাশীষ রায় ও রুবেল হোসেন। সঙ্গে স্পিনার তাইজুলও রয়েছেন। সৌম্যকে দিয়েও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও সাফল্য পায়নি সফরকারীরা।

ইনজুরিতে দ্বিতীয় টেস্টে নেই তামিম ইকবাল। আগেই বিশ্রাম চেয়ে পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। চার বছরে প্রথমবার দুইজনকে ছাড়াই টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। আর এইদিন দলে বড় পরিবর্তন এনেছে সফরকারীরা। তামিমের জায়গায় এসেছেন সৌম্য সরকার। এছাড়া আগের টেস্টের তিন বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলাম জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। তাদের বদলে একাদশে ঢুকেছেন তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও শুভাশীষ।

এদিকে প্রথম টেস্টে সহজেই জয় পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা দলে পরিবর্তন এনেছে মাত্র একটি। আগের টেস্টে মরনে মরকেলের ইনজুরিতে দলে ঢুকেছেন বাঁহাতি পেসার ওয়েইন পারনেল। ২০০৭ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট খেলছেন স্টেইন-ফিল্যান্ডার-মরকেল এই তিনজনকে ছাড়া।

বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, শুভাশীষ রায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: ডিন এলগার, অ্যাইডেন মারক্রাম, হাশিম আমলা, টেমবা বাভুমা, ফাফ ডুপ্লেসি, কুইন্টন ডি কক, আন্দিলে ফেলুয়াকো, ওয়েন পার্নেল, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা ও ডুনে অলিভিয়ের।