হাফেজ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত, সহপাঠিদের সহযোগিতায় পালিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি !

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: গড্ডিমারী হাফিজিয়া ও আলিয়া মাদ্রাসার আবু রায়হান ইসলাম (১৩) নামে এক কোরানের হাফেজ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় রুমে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে রায়হান গুরুতর আহত অবস্থায় অবস্থায় সহপাঠিদের সহযোগিতায় পালিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

গত বুধবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী হাফিজিয়া ও আলিয়া মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতের এ ঘটনাটি ঘটে।

বর্তমানে আহত ঐ শিক্ষার্থী হাতীবান্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। আর এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলামের বিচার দাবী করেছেন অভিভাবকরা।

আহত আবু রায়হান ইসলাম ঐ উপজেলার পশ্চিম বেজ গ্রাম এলাকার ফজলের রাব্বির ছেলে।

সরেজমিনে শুক্রবার সন্ধ্যার পরে হাতীবান্ধা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়। আহত আবু রায়হান ইসলাম বেডে শুয়ে আছে।
তার কাছে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে সে সাংবাদিককে জানান, গত বুধবার বিকেলে ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলামের ভাগিনা আশরাফুল ইসলামের ঝগড়া হয়। সে সময় হঠাৎ করে হুজুর এসে কিছু না জেনেশুনে আমাকে বেদম মারধর করে মাদ্রাসা ঘরে আটকিয়ে রাখেন। পর বৃহস্পতিবার ভোরে সুযোগ বুঝে সহপাঠীদের সহযোগিতায় মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে এসে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি  হই।
রায়হায় কান্নাজড়িত কন্ঠে আরও বলেন, হুজুর আমাকে যেভাবে মেরেছে তাতে আমার মনে হয়েছিল আর বাচবই নাই। এভাবে কেউ আমাকে মারতে পারে তা জীবনেও ভাবি নাই।

হাতীবান্ধা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাঈম হাসান নয়ন জানান, রায়হানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে।

মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মইনুল ইসলাম জানান, একটু শাসন করতে গিয়ে অতিরিক্ত মারধর হয়ে গেছে। তবে রায়হানকে আটকিয়ে রাখার কথা অস্বীকার করেন ঐ শিক্ষক।
রায়হানকে দেখতে এসেছিলেন কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে ঐ শিক্ষক বলেন, সময়ই পাইনি।

গড্ডিমারী হাফিজিয়া ও আলিয়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সম্পাদক এমদাদুল হক জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

হাতীবান্ধা থানার ওসি শামীম হাসান সরদার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।