রংপুরের এ্যানঞ্জেলা বিউটি পার্লারে জোড় পূর্বক নারীকে দিয়ে অবৈধ কাজের চেষ্টা!

রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুরে বিয়ে করে স্ত্রীকে দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় একটি বেসরকারি মেডিকেল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. গুলশান আরা।

দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৬ আগষ্ট পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে নগরীর রামপুরার বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে সুমন মিয়ার সাথে গুলশান আরার বিয়ে হয়। সুমন নগরীর ডিসির মোড় এলাকার নুর স্টোর নামে মুদি দোকানের স্বত্বাধিকারী।

তাদের বিয়ের ঘটক ছিলেন সুমনের চাচা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। ৪ লাখ ১০১ টাকা দেন মোহরানা নির্ধারণ করে ১২ নং ওয়ার্ডের কাজী হাফেজ মো. আখতারুজ্জামান বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। বিয়ের পর ৩ দিন সুমন তার শ্বশুড়ের বাসায় রাতযাপন করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কেনাকাটার জন্য ৮ আগষ্ট তার মামা হাসিনুজ্জামান বিপুর সাথে নগরীর ডিসির মোড়ে নুর স্টোরে আসেন গুলশান আরা। এসময় সুমন তার বোন লাভলীর বিউটি পার্লার এ্যাঞ্জেলার ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে অপেক্ষা করতে বলে। অপেক্ষাকালীন সময় একজন অজ্ঞাত লোক তাকে জোর করে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় ।

এতে তাদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তার চিৎকারে সেখান থেকে সেসময় নিস্তার পান তিনি। পরে সুমন সেখান থেকে তার বোন লিজার বাসায় নিয়ে গিয়ে ৩টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। এসময় তারা গুলশানের মামাকে নগরীর রাধাবল্লবের এক কোয়ার্টারে আটকিয়ে রাখে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের ডিভোর্সের জন্য স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, এ্যাঞ্জেলা বিউটি পার্লারের মালিক শাহনাজ বেগম লাভলীর সহযোগি সুমন, নুর আলম এবং মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে সিরাজুল সিরাজ, ডিসির মোড় এলাকার মৃত ওহাবের ছেলে জামান মিয়া, শাহানাজ বেগম, রাধাবল্লভ এলাকার নাঈমুল ওরফে রনি, লিজা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি চক্র এ্যাঞ্জেলা বিউটি পার্লারের ভিতরে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

তাদের এই ব্যবসার সাথে দেশি বিদেশি ২৫/৩০ জন মেয়ে রয়েছে। যাদেরকে দিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ করতেন। উক্ত ব্যাবসায় যারা রাজি হতেন না কৌশলে তাদেরকে বিভিন্ন দেশে পাচার করে দিতেন। শাহনাজ বেগম লাভলী এবং তার সহযোগিরা মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য বলেও অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গুলশানা আরা ৯ সেপ্টেম্বর বাদি হয়ে আদালতে ৭ জনকে আসামী করে মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কোতয়ালি থানায় তা তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত ভার দেওয়া হয় কোতয়ালি থানার এসআই ওলিয়ার রহমানকে।

২ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। সময়মত তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ার কারণে গুলশান আরা সংবাদ সম্মেলন করেন বলেও জানান। আসামী পক্ষের লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এদিকে, বুধবার দুপুরে ডিসির মোড় এলাকায় বিউটি পার্লার এ্যাঞ্জেলার ছবি সাংবাদিকরা তুলতে গেলে সেখানে তাদের ক্যামেরা নিয়ে টানা হেঁচড়া করেন লাভলীর ভাই সাহাবুল ও তার লোকজন। পরে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

মুঠোফোনে সুমন মিয়ার সাথে কয়েক দফা চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। অবশেষে তার বড় বোন বিউটি পার্লার এ্যাঞ্জেলার মালিক লাভলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, গুলশান আরা আগে বিয়ে করেছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই অলিয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান বিষয়টি ভিত্তিহীন। তিনি খুব শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানান।