🕓 সংবাদ শিরোনাম

‘পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশবিরোধী, এদের খুঁজে বের করতে হবে’ * পদ্মা সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে এশিয়ার ৫ দেশ * সাম্প্রতিক বন্যায় ৭ কোটি টাকার বেশি নগদ বরাদ্দ * সিলেটে আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও ৫০ হাজার বন্যার্ত মানুষ * গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ২ কোটি ৯ লাখ * গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার দাবিতে আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভ * এবার পাবনায় একসঙ্গে ৩ সন্তানের জন্ম, নাম পদ্মা-সেতু-উদ্বোধন * নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু * সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে কোস্ট গার্ড মহাপরিচালকের ত্রাণ বিতরণ * চার দফা দাবিতে পাবিপ্রবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ *

  • আজ সোমবার, ১৩ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ২৭ জুন, ২০২২ ৷

ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে গোলাগুলি, বোমায় বোমায় রণক্ষেত্র গোটা এলাকা


❏ রবিবার, জুলাই ১৭, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় গোলাগুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও ব্যাংক রোস্তরাঁয় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা পৌর এলাকা।

issordi

রোববার বিকেলে ঈশ্বরদী রেল বাজারের ১ নম্বর গেটে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড শটগানের ফাঁকাগুলি ছোড়ে।

পূর্ব বিরোধের জের ধরে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মিন্টু এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র ভূমি মন্ত্রীর জামাতা আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এসময় অর্ধশতাধিক রাউন্ড বন্দুকের গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ, একটি ব্যাংক ও রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরাজ করছিল। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর আশির্বাদপুষ্ট ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মিন্টু এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মন্ত্রীর জামাতা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। এই বিরোধের কারণেই গত ১৪ জুলাই দুটি গ্রুপই পৃথক পৃথকভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। মিছিল ও সমাবেশ শেষে উভয় গ্রুপ জড়িয়ে পড়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে। ওই ঘটনায় শুক্রবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু গ্রুপের পক্ষ থেকে আকাল সরদার নামের এক কর্মী বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তারও করে।

এদিকে, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃত কর্মীদের মুক্তির দাবিতে রোববার সকালে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ওরফে জামাই মিন্টুর সমর্থকেরা উপজেলা সম্পাদক মিন্টুকে দোষারোপ করে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সম্মেলনের পর পরই ঈশ্বরদী পৌর এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরই জের ধরে বিকেল ৪টার দিকে ঈশ্বরদী রেল বাজারের ১ নম্বর গেটে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় ঈশ্বরদী প্রাইম ব্যাংকের ঈশ্বরদী শাখা, প্রগতি রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। ভয়ে দিকবিদিক ছুটাছুটি শুরু করে জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড শটগানের ফাঁকাগুলি ছোড়ে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিমান কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আওয়ামী লীগের উভয় গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।