🕓 সংবাদ শিরোনাম

‘পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশবিরোধী, এদের খুঁজে বের করতে হবে’ * পদ্মা সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে এশিয়ার ৫ দেশ * সাম্প্রতিক বন্যায় ৭ কোটি টাকার বেশি নগদ বরাদ্দ * সিলেটে আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও ৫০ হাজার বন্যার্ত মানুষ * গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ২ কোটি ৯ লাখ * গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার দাবিতে আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভ * এবার পাবনায় একসঙ্গে ৩ সন্তানের জন্ম, নাম পদ্মা-সেতু-উদ্বোধন * নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু * সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে কোস্ট গার্ড মহাপরিচালকের ত্রাণ বিতরণ * চার দফা দাবিতে পাবিপ্রবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ *

  • আজ সোমবার, ১৩ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ২৭ জুন, ২০২২ ৷

ভয় আতঙ্কে গোটা দেশ : একদিকে জঙ্গি হামলার ভীতি অন্যদিকে পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০১৬ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – চাকরির কারণে যে সব ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নিয়ে মেস বানিয়ে থাকেন এবং লেখাপড়ার কারণে হলে সিট না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ছাত্র মেসে থাকেন তারা রয়েছেন মহা আতঙ্কে। একদিকে ভয় যে কোনো রাতে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে; টাকা না দিলে ‘জঙ্গি তকমা’ দেবে; অন্যদিকে জঙ্গি হামলার শঙ্কা।

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের চিত্র প্রায় অভিন্ন। বাড়িওয়ালাদের ভীতি ভাড়াটিয়া নিয়ে। কোন ভাড়াটিয়াকে কখন জঙ্গি হিসেবে গ্রেফতার করে ‘আস্তানা’ দেয়ার অভিযোগ তোলা হয়। অজানা আতঙ্কেই জুম্মার নামাজে মসজিদগুলোতে তরুণ মুসল্লিদের উপস্থিতি কমে গেছে। বনের বাঘ নয়; মনের বাঘ যেন খুবলে খুবলে খাচ্ছে মানুষকে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই গুজব আতঙ্ক। ‘অন্ধকার ঘরের সাপ সারা ঘরে’ প্রবাদের মতোই অজানা আতঙ্ক। একদিকে জঙ্গি হামলার ভীতি; অন্যদিকে পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক। রাজধানীর বড় বড় মার্কেট, স্থাপনা, কোর্ট, বিমানবন্দর, বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, নৌবন্দর সবখানে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হচ্ছে। আর জঙ্গি খুঁজতে পুলিশের তৎপরতাও করে তুলেছে সন্ত্রস্ত। আর যাদের গ্রেফতার আতঙ্ক নেই তারাও জঙ্গি হামলার গুজবে আতঙ্কে দিনযাপন করছেন। কেউ জানে না কখন কোথায় কি অঘটন ঘটে।

voy
ভাষা ও শব্দ বদলালেও প্রতিদিন খবরের শিরোনাম সন্ত্রাস, জঙ্গি হামলা, জঙ্গি গ্রেফতার, আস্তানার খোঁজ ইত্যাদি। প্রতিদিনই দায়িত্বশীলদের বাগাড়ম্বর সন্ত্রাসের শেকড় উৎপাটন করব, ঠেকিয়ে দেব, শুইয়ে দেব। কিন্তু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক-ভীতি দূর হচ্ছে না। কখন কোথায় কি হয় সে আশঙ্কায় নিত্যদিন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার পারদ বাড়ছেই। পত্রিকার পাতা খুললেই জঙ্গির খবর। টিভির নিউজ ও অনলাইন মিডিয়ায় একই বার্তা। দেশি-বিদেশি সব প্রচার মাধ্যম দখল করেছে জঙ্গিনামা।
এছাড়াও ফেসবুক, টুইটার, ব্লগে এ নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, ভীতি-আতঙ্ক এবং গুজব চলছেই। বাস-ট্রেন, স্টিমার-লঞ্চ, হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সবখানে একই আলোচনা-বিতর্ক। কি হচ্ছে দেশে? সরকার কি করছে? সরকার কি সত্যিই জঙ্গি দমনে আন্তরিক? তাহলে জাতীয় ঐক্যের পথে হাঁটছে না কেন? সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এখনো ধোঁয়াশা ছড়াচ্ছেন কেন? গুলশান ট্র্যাজেডির ১৬ দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, হামলা হতে পারে এমন তথ্য তারা গোয়েন্দা মারফত পেয়েছেন আগেই। তাহলে তারা কেন প্রাণহানির আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন না? কেন ২৮ জনকে প্রাণ দিতে হলো?
গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাকা-ের পর কূটনৈতিক পাড়ায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। এ নিরাপত্তার কারণে মানুষের প্রবেশ কড়াকড়ি করা হয়। পাবলিক বাস প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। যারা প্রাইভেট গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে চলাফেরা করতে পারছেন তাদের তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ওই এলাকার মার্কেট এবং হোটেলগুলোর ব্যবসা লাটে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনতে শুরু করেছেন। গুলশান-বারিধারা-বনানীতে বসবাস পরিবারগুলোর তরুণদের পিতা-মাতা ভীতি-আতঙ্কে রয়েছেন। মসজিদগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি কমে গেছে। আগে জুম্মার নামাজের সময় গুলশান-বারিধারার মসজিদগুলোতে অসংখ্য তরুণ নামাজ আদায় করতেন। পহেলা জুলাই থেকে মসজিদে জুম্মার নামাজে তরুণদের উপস্থিতি কমে গেছে। পুলিশি গ্রেফতার এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের খুদবা সরবরাহের পর ক্ষমতাসীনদের অতিরিক্ত নজরদারির শুরু হওয়ায় যদি জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সে আশঙ্কা থেকে জুম্মার নামাজে সারা দেশের মসজিদগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি কমে গেছে। জঙ্গি হামলা নিয়ে যে গুজব আর সর্বত্র ভীতি তাতে মনে হচ্ছে গোটা দেশ কার্যত জঙ্গি ও সন্ত্রাসকবলিত জনপদে পরিণত হয়েছে। এ জঙ্গি সমস্যা যে রাজনৈতিক এবং বৈস্মিক এতদিন সরকার তা স্বীকার করেনি। সবকিছুতে বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দায় চাপিয়ে পুলিশ দিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেছে। এতে পুলিশি জুলুম বাড়লেও সঙ্কটের সমাধান হয়নি বরং দানব জঙ্গিদের শাখা-প্রশাখার বিস্তার ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন সন্ত্রাসের সর্বোচ্চ রূপই হলো জাতিগত যুদ্ধ এবং আগ্রাসন যা কিনা একটি সম্পূর্ণ সংগঠিত অপরাধ।