🕓 সংবাদ শিরোনাম

‘পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশবিরোধী, এদের খুঁজে বের করতে হবে’ * পদ্মা সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে এশিয়ার ৫ দেশ * সাম্প্রতিক বন্যায় ৭ কোটি টাকার বেশি নগদ বরাদ্দ * সিলেটে আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও ৫০ হাজার বন্যার্ত মানুষ * গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ২ কোটি ৯ লাখ * গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার দাবিতে আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভ * এবার পাবনায় একসঙ্গে ৩ সন্তানের জন্ম, নাম পদ্মা-সেতু-উদ্বোধন * নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু * সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে কোস্ট গার্ড মহাপরিচালকের ত্রাণ বিতরণ * চার দফা দাবিতে পাবিপ্রবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ *

  • আজ সোমবার, ১৩ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ২৭ জুন, ২০২২ ৷

মৃত্যুর ২৪১৫ বছর পরে প্রমাণিত হলো সক্রেটিস নির্দোষ..!


❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২১, ২০১৬ চিত্র বিচিত্র

news_picture_34913_socrates1


চিত্র বিচিত্র ডেস্কঃ

বছরের পর বছর জেল খাটার পরে অনেকেই বেকসুর খালাস পান। ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পরও অপরাধ প্রকৃত দোষী কি না, তা নিয়ে তর্ক চলতেই থাকে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রায় ২,৪১৫ বছর পরে কেউ যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন? চমকে উঠছেন তো? তাহলে সাজাপ্রাপ্তের নামেও আরো বড় চমক রয়েছে। কারণ মৃত্যুদণ্ডের ২,৪১৫ বছর পরে গ্রিসের একটি আদালত জানাল, সক্রেটিস নির্দোষ ছিলেন।

খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ সালে গ্রিসের আথেন্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন দার্শনিক সক্রেটিস। প্রাচীন গ্রিসে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে তরুণদের ভুলপথে চালিত করা, ধর্মের অপব্যাখ্যা এবং দুর্নীতিকে প্রশয় দেয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল। সক্রেটিস এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছিলেন, যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমী সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু প্রাচীন গ্রিসের শাসকরা সক্রেটিসের তত্ত্বগুলো মানতে চায়নি।

আথেন্সের তৎকালীন আরাধ্য দেবতাদের নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন সক্রেটিস। তার বিরুদ্ধে অত্যাচারী শাসকদের সমর্থনেরও অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও বলা হয় যে, সক্রেটিস নির্দোষ হলেও মুখ বুজে বিচারকদের রায় মেনে নিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে পালানোর সুযোগ পেলেও আথেন্স ছেড়ে যাননি তিনি।

তাছাড়া, তরুণদের বিপথে নিয়ে যাওয়া, নতুন দেবদেবীদের সম্পর্কে প্রচার করা-সহ সক্রেটিসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর স্বপক্ষে আদালতে কোনো যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ বিচারপর্বে তুলে ধরা যায়নি বলেই অভিযোগ ওঠে। হেমলক বিষপান করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মাথা পেতে নিয়েছিলেন সক্রেটিস। তিনি সত্যিই দোষী ছিলেন কি না, সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গত শুক্রবার আথেন্সের ওনাসিস ফাউন্ডেশনের একটি আদালতে ফের নতুন করে বিচারব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বিচারেই সক্রেটিসকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে ওই আদালত।

সক্রেটিসের সমর্থনে তার আইনজীবী বলেন, ‘‘কোনো ব্যক্তির অভিমত অপরাধ হতে পারে না। সক্রেটিস সত্যের সন্ধান করতেন। আর তা করতে গিয়েই তিনি তার নিজস্ব মত তুলে ধরতেন। তবে আমার মক্কেলের একটাই দোষ, তিনি উস্কানিমূলক কথা বলে মানুষকে খ্যাপাতেন। আর সবসময় বাঁকা বাঁকা কথা বলতেন। যেমন- তিনি বলতেন, ‘দেখাও তোমাদের গণতন্ত্র কতটুকু খাঁটি ও বিশ্বাসযোগ্য’ ইত্যাদি।’’

কিন্তু তিনি আরো বলেন যে সাধারণ মামলাকে জটিল করার জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি দেয়াটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’’

সক্রেটিসের হয়ে এই মামলায় ফ্রান্সের এই বিখ্যাত আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। উল্টোদিকে গ্রিস-সহ বেশ কয়েকটি দেশের আইনজীবীরা সক্রেটিসের বিরোধিতা করেন। এই মামলার বিচারের জন্য আমেরিকা ও ইউরোপীয় বিচারকদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল তৈরি করা হয়। দীর্ঘ বাদানুবাদের পরে সক্রেটিসের আইনজীবীর যুক্তিতেই সিলমোহর দেন বিচারকরা। গত বছর নিউইয়র্কের একটি আদালতেও সক্রেটিস নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন।