🕓 সংবাদ শিরোনাম

মুখ ফসকে অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ বেরিয়ে গেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী * মাধবপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর গাছে মিলল ঝুলন্ত দেহ * জিয়া কখনই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না: হানিফ * প্রতিরোধ নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু হবে, খেলায় আমরাই জিতব: শামীম ওসমান * সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত * স্কুলছাত্রের ঘরে ঢুকে দরজা আটকালেন কলেজছাত্রী, রাত গভীরে গ্রাম্য সালিসে হলো বিয়ে * সালথায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে চাঁদাবাজি, আটক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামী * বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা চলে, মাঝিদের জীবন চলে না * চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ও উত্তরায় গার্ডার পড়ে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক * নারায়ণগঞ্জে তেল চোরাই চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার *

  • আজ মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র, ১৪২৯ ৷ ১৬ আগস্ট, ২০২২ ৷

জুমার দিনের তাৎপর্য ও বিধি-বিধান


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১০, ২০১৮ ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক: জুমার দিনটি মুসলমানদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনটি অনেক তাৎপর্য রয়েছে। এদিন অনেক ফযীলত ও মর্যাদা রয়েছে এবং আছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। নিন্মে উক্ত বিষয়গুলো অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জানা ও মানার তৌওফীক দান করুন। সর্বশ্রেষ্ঠ দিন কোনটি এবং কেন?

এব্যাপারে আল-কোরাআনে বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, জুমার নামাযের জন্য আযান দেয়া হলে তোমরা আল্লাহর স্বরণে তাড়াতাড়ি ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর।’ (সূরা জুমুআ: ৯)

হযরত আবুহুরাই (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বাহির করা হয়। আর এই দিন ছাড়া অন্য কোন দিনে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না।’ (মুসলিম, তাহ: মিশকাত হা: নং ১৩৫৬)

জুমার সলাতের গুরুত্ত্ব:
হযরত আবুল জা’দ জমারী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘অলসতা-অবহেলা করে যে ব্যক্তি তিন জুমাহ পরিহার করবে আল্লাহ তায়ালা তার ক্বলবে মহর মেরে দিবেন।’ (আবুদাউদ,তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজা, দারেমী, হা: সহীহ, মিশকাত হা: নং ১৩৭১)

জুমার দিনে দরূদ পড়ার ফজিলত:
হযরত আউস বিন আউস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন ‘তোমাদের দিন সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে, এই দিনে সিংগায় ফু দেওয়া হবে এবং মহা বিপর্যয়ও (ক্বিয়ামত) ঘটবে এই দিনেই। তাই এই দিনে তোমরা বেশি বেশি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে, কেননা তোমাদের দরুদ আমার উপর বখশান হয় জুমার দিনে।’ (আবু দাউদ,নাসাঈ,ইবনু মাজা প্রমুখের বরাতে সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব, মিশকাত আলবানী হা: নং১৩৬১)

জুমার সলাতে যারা দেরী করে যায় তাদের নাম লেখা হয় না:
হযরত আবুহুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘জুমার দিনে মসজিদের দরজায় ফেরেশতাগণ দাড়িয়ে যান, পর্যায়ক্রমে লেখতে থাকেন প্রথমে আগমন কারীদের ফজীলত। সর্বপ্রথম আগমনকারী একটি উট কুরবানী করার মত সুয়াব লাভ করেন, পরের জন গরু, তারপরের জন দুম্বা, তারপরের জন মুরগী এবং তারপরের জন ডিম কুরবানী দেওয়ার মত সাওয়াব লাভ করেন। অতপর ইমাম যখন বের হন, তখন তারা খাতা-পত্র গুটিয়ে রেখে মনযোগ দিয়ে খুৎবা শুনেন। (বুখারী আধুনিক প্রকাশনী হা:নং৮৭৬, মুসলিম, মিশকাত হা: নং১৩৮৪)

দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ না পড়ে মসজিদে কখনই বসা যায় না?:
হযরত জাবের (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) খুৎবা দিচ্ছিলেন এমন সময় সালীক গাতফানী নামের এক সাহাবী এসে মসজিদে বসে পড়লেন, রাসূলুল্লাহ (স.) তাকে বল্ললেন, হে সালীক দাড়াও, দুই রাকাত নামায পড়, তবে সংক্ষেপে পড়। এরপর তিনি (সমেবেত জনতা সম্বধন করে) বললেন, জুমার দিনে ইমামের খুৎবা চলাকালেও যখন তোমাদের কেউ আসবে তখনও যেন সে দুই রাকাত নামায পড়ে নেয় এবং যেন তা সংক্ষেপ করে। (বুখারী-আধুনিক প্রকাশনী, হা: নং৮৭৭,৮৭৮,১০৯২, মুসলিম)

কী কাজ করলে জুমা বাতিল হয়ে যায়?:
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, জুমার দিন খুৎবা চলাকালে তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে শুধু বল যে ‘চুপ কর’ তাহলেও তুমি একটা বাজে কাজ করলে। (বুখারী আধুনিক প্রকা: হা: নং৮৮১, মুসলিম হা: নং৮৫১, মিশকাত আলবানী হা:নং১৩৮৫) অর্থাৎ চুপ কর-একথাও বলা যাবে না আর যে খুৎবা না শুনে অন্য কাজ করবে তার জুমাই বাতিল হয়ে যাবে। (যাদুল মায়াদ দ্র:)

মসজিদে মানুষের কাঁধ ডিঙ্গিয়ে সামনে যাওয়া কেমন?:
আব্দুল্লাহ বিন বুসর (রা.) বলেন, একদা জুমার দিন রাসূলুল্লাহ (স.) খুৎবা দিচ্ছিলেন এমন সময় মানুষের কাঁধ ডিঙ্গিয়ে একটি লোক এগিয়ে এলো। রাসূলুল্লাহ (স.) তাকে বললেন, ‘তুমি বস, তুমি মানুষকে কষ্ট দিয়েছ।’ (আবুদাউদ, নাসাঈ, ইবনু খুজাইমা, ইবনু হিব্বান,সহীহ আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব)