ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার চার জঙ্গি দুই দিনের রিমান্ডে

atok 785
❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ময়মনসিংহ

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার- ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার চার জঙ্গির প্রত্যেককে দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ময়মনসিংহের মূখ্য বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলী আদালতের অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম আব্দুল হাই এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি সময়ের কন্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রসূন কান্তি দাস।

তিনি বলেন, চার জঙ্গিদেরকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালতে তোলে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। কিন্তু বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

এর আগে শনিবার মধ্যরাতে নগরীর খাগডহর এলাকায় অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)- ১৪ ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল। ভোর পাঁচটার দিকে চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলেন- ময়মনসিংহের জুলহাস উদ্দিন, মো. আলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ রোবায়েদ আলম ও রংপুরের মো. আবু আইয়ুব।

এসময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড গুলি, ৮টি বোমা সদৃশ বস্তু, ৪টি ব্যাগ, লক ব্রেকিংসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা।

র‍্যাব জানায়, চলতি বছরের গত ৩১ আগস্ট জামালপুরের মাদারগঞ্জের একটি আস্তানায় জঙ্গিরা জড়ো হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জামালপুরের জামতলা চর এলাকা থেকে ব্রাহ্মপুত্র নদ দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রা করে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে তারা বিভিন্ন চরে যাত্রাবিরতি করে। এরপর মধ্যরাতে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় পৌঁছায়।

ডাকাতির নেতৃত্বে ছিল গ্রেপ্তার জঙ্গি জুলহাস। তার নেতৃত্বে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা করেছিল। দলের সদস্যদের হাউস ও লক ব্রেকিংসহ বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‍্যাব- ১৪ এর অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘জঙ্গিরা তাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির জন্য দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এ জন্য জামালপুরের একটি গোপন আস্তানায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের।’

এরই মধ্যে ময়মনসিংহের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও, স্বর্ণালংকারের দোকান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে একটি টার্গেট ঠিক করেছিল। জল ও স্থলপথ হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরিকল্পনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে নৌকা, মাইক্রোবাস ও বাইক অন্তর্ভুক্ত ছিল। লুট করা অর্থ ময়মনসিংহের একটি এলাকার অপর একটি দলের নিকট হস্তান্তর করার পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।