• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ৩০ জুন, ২০২২ ৷

সিদ্ধান্ত পরিবর্তন: যত আসন তত যাত্রী নিয়েই চলবে গনপরিবহন!

গনপরিবহন
❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক:করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ মোকাবিলায় বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে আগামী শনিবার থেকে ‘গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন শুরুর ঘোষণার সাথে যাত্রীদের গুণতে হবে না বাড়তি ভাড়া’ এমন সিদ্ধান্ত ছিলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)র।

তবে পরিবহন মালিক সমিতির সাথে আলোচনার পর গত ১০ জানুয়ারিতে নেয়া সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণপরিবহনে যত আসন রয়েছে তত যাত্রী পরিবহন করা যাবে। তবে এ পর্যায়ে বাসচালক,শ্রমিক ও যাত্রীদের সবাইকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

আজ ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার আমাদের জানিয়েছেন শনিবার থেকে গণপরিবহনের যত আসন তত যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। কারণ অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করলে পরিবহন সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে বাড়ছে ভোগান্তি। এক্ষেত্রে যাত্রী এবং পরিবহন চালক ও হেলপারদের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে হবে।

ইতমধ্যে আমরা সব পরিবহন মালিকদের বিআরটিএর এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছি উল্লেখ করে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, এক্ষেত্রে যারা সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কে পুলিশ প্রশাসনকে আমরা অনুরোধ করেছি তারা যাতে বিষয়টি দেখেন। এজন্য আমাদের হেলপার ও চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি করোনা মহামারি প্রতিরোধে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। ১১ দফা বিধিনিষেধের ছয় নম্বর দফায় বলা হয়েছে, ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী নিতে হবে। সব যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে। এতে আরও বলা হয়, জনসাধারণকে অবশ্যই বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৩ জানুয়ারি থেকে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তবে এ নির্দেশনার পর থেকেই ভাড়া বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দেওয়া শুরু করেন বাস মালিকরা। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয় বনানীতে আজ (১২ জানুয়ারি) দুপুরের পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৈঠকে বসে বিআরটিএ। ওই বৈঠকে, বাসভাড়া না বাড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, বৈঠকে পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা প্রস্তাব করেছেন, বিধিনিষেধ চলাকালে বাস ও মিনিবাসে শতভাগ যাত্রী পরিবহন করা হলে মালিকদের লোকসান গুনতে হবে না। ৫০% যাত্রী পরিবহন করা হলে রাজধানীতে পরিবহন সংকট চরম আকার ধারণ করবে ও যাত্রীদের দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছাবে। এ অবস্থায় বাস ও বাস টার্মিনালে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এখন যেভাবে বাস ও মিনিবাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে সেভাবে শতভাগ যাত্রী পরিবহন করা উচিত।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের এ প্রস্তাব সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো হবে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, এখন বাস ভাড়া বাড়ানো যৌক্তিক হবে না। কারণ গত নভেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসে যাত্রী পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমাদের ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তারা সবশেষে একমত হয়েছেন যে ভাড়া বাড়ানো হলে যাত্রীদের ওপর বেশি চাপ তৈরি করা হবে এবং এটি এ মুহূর্তে বাড়ানো যৌক্তিক হবে না।