• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ৩০ জুন, ২০২২ ৷

দেনাদারেরাই উল্টো মহসিন খানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল: পুলিশ

mohosin n
❏ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ Uncategorized

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ফেসবুক লাইভে এসে মাথায় গুলি করে ব্যবসায়ী আবু মহসিন খানের আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ বলছে, ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে খুবই হতাশাগ্রস্ত ছিলেন আবু মহসিন খান। যাদের কাছ থেকে টাকা পেতেন, তারাই উলটা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি জোনের এসি আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘আমরা যে আলামত পেয়েছি, তাতে ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা করেছেন বলেই মনে হচ্ছে। ব্যবসায়িক কিছু লেনদেনে তিনি খুব হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পেতেন, উনারা উলটা তার নামে মামলা করেছেন বলে আমরা দেখেছি। এগুলো নিয়ে তিনি আসলে ব্যক্তিগতভাবে খুব হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।’

আবু মহসিন খান গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধানমণ্ডির নিজ বাসায় বসে তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। সেখানে আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে কালেমা পড়ে ফেসবুক লাইভে লাইসেন্স করা পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

আবু মহসিন খানের বড় মেয়ে তিনা চলচ্চিত্র অভিনেতা রিয়াজের স্ত্রী; তারা রাজধানীর বনানীতে থাকেন। নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী ছোট ছেলে নিশানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। নিজ সন্তানদের প্রতি ফেসবুক লাইভে ক্ষোভের কথা জানালেও আত্মহত্যার ঠিক আগে তাদের প্রতি দিয়েছেন বাবা হিসেবে শেষ উপদেশ।

এদিকে শ্বশুরের মৃত্যুর খবর শুনে নায়ক রিয়াজ তার স্ত্রী তিনাকে নিয়ে বনানীর বাসা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের রিয়াজ বলেছেন, এ মৃত্যুর বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। পুলিশ তদন্ত করে যা পাবে, তার সঙ্গেই তারা একমত পোষণ করবেন।

পুলিশ বলছে, বুধবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন নায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খান। লাইভে নিজের শারীরিক অবস্থা, পরিবার, স্বজন, ব্যবসাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। লাইভের ১৫ মিনিটের মাথায় প্রথমে একটি ফাঁকা গুলি। পরে নিজের মাথার ডান পাশে গুলি করেন মহসিন খান। এরপর নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি।

আত্মহত্যার আগে তিনি কাফনের কাপড় রেখে গেছেন। সুইসাইড নোটও রেখে যান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, প্রায় ৫ বছর ধরে আবু মহসিন খান একাই ছিলেন। বর্তমানেও ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলে সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন তিনি। যে পিস্তল দিয়ে তিনি নিজের মাথায় গুলি চালিয়েছেন, সেটি তার নামে লাইসেন্স করা। টেবিলের ওপর ওই পিস্তলের লাইসেন্স কপি রাখা ছিল।