• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ৩০ জুন, ২০২২ ৷

টিটিই শফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে উস্কানি দিয়েছিল ট্রেনের গার্ড


❏ সোমবার, মে ১৬, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীর আলোচিত টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এবং ট্রেনের গার্ড শরিফুল ইসলাম ওই যাত্রীকে দিয়ে টিটিই শফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে উস্কানী দিয়েছিলেন বলেও জানা যায়।

সোমবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগী ব্যবস্থাপকের হাতে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত দল। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় সহকারী পরিবহণ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম প্রতিবেদন জমা দেন। এ সময় অন্য দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন হাতে পেয়ে বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তদন্তে টিটিই শফিকুল ইসলাম নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। যে কারণে অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

ডিআরএম শাহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে ট্রেনের গার্ড শরিফুল ইসলাম ওই যাত্রীকে দিয়ে টিটিই শফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে উস্কানী দিয়েছিলেন। কোনো কারণে ট্রেনের গার্ড শরিফুল টিটিই শফিকুলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। গার্ড শরিফুলের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছেন তদন্ত কমিটি।

রেলমন্ত্রীর স্ত্রী বা তার মামাতো বোনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, এ বিষয়ে বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ছিল ট্রেনের মধ্যে যাত্রীর সাথে টিটিই শফিকুলের খারাপ আচরণের অভিযোগ। সেকারণে শুধু সেই বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো বিষয় এর সাথে আনা হয়নি। আর তদন্তে অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ কেউই এ বিষয়ে কোনো কথা বা অভিযোগ উঠে আসেনি।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় সহকারী পরিবহণ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, মুল প্রতিবেদন ৭ পৃষ্ঠার। সাথে আরো ৪০ পৃষ্ঠার তথ্য উপাত্ত যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে শফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। অভিযোগকারী ট্রেনযাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্ত প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাকে রেলওয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ে এসে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। আর ট্রেনের গার্ড শরিফুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ০৫ মে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটের তিনযাত্রীকে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করেন পাবনার ঈশ্বরদীর ভ্রাম্যমান টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। পরে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ফোনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন।

এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে অভিযোগ তদন্তের গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। এর মাঝেই গত ০৮ মে টিটিই শফিকুলের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদের বহালের নির্দেশ দেন রেলমন্ত্রী।

একইদিন শুরু হয় তদন্ত দলের কাজ। তবে এদিন তদন্তের স্বার্থে কমিটিকে আরো তিনদিন বাড়িয়ে তদন্তের সময় পাঁচদিন করা হয়। যে সময় শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার (১১ মে)। কিন্তু ওইদিন রেলওয়ের বিভাগী ব্যবস্থাপক জরুরী বৈঠকে ঢাকায় থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন সোমবার (১৬ মে) ধার্য করা হয়।

এদিকে, বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার ও স্বপদে বহালের আদেশ পেয়ে গত ৯ মে ঈশ্বরদী টিটি ইজ হেডকোয়াটারে পুনরায় নিজের কর্মস্থেলে যোগ দেন টিটি শফিকুল। পরদিন ট্রেনে দায়িত্ব বুঝে পেয়ে কাজ শুরু করে প্রথমদিনেই ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেন তিনি।