চিকিৎসার নামে প্রতারণা, ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার গ্রেপ্তার

Cox's Bazar news
❏ সোমবার, মে ১৬, ২০২২ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার): ডাক্তারি পাস না করেও দীর্ঘদিন ধরে নামের পাশে লিখেন এমবিবিএস ডাক্তার। আর ডাক্তার সেজে রোগীদের বিভিন্ন জটিল ভুয়া চিকিৎসা প্রদান করে আসছিলেন ফরিদ উদ্দিন নামে এক প্রতারক।

চিকিৎসার নামে মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযোগে চকরিয়া সিটি হাসপাতাল থেকে ওই তাকে গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত।

এসময় তাকে এক বছরের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) রাহাত উজজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ।

সোমবার (১৬ মে) দুপুরে চকরিয়া পৌরশহরের বাস টার্মিনালস্থ সিটি হাসপাতাল থেকে ভুয়া ডাক্তার ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) রাহাত উজজ্জামান বলেন, ফরিদ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চকরিয়া-পেকুয়াসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছে। ওই ভুয়া ডাক্তার ফরিদ উদ্দিন চকরিয়া পৌরশহরের বাস টার্মিনালস্থ সিটি হাসপাতালে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে অবস্থান করছেন বলে আমাদের কাছে খবর আসে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরের দিকে ওই হাসপাতালে চকরিয়া থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সাথে নিয়ে অভিযানে যায়। ওইসময় ফরিদ উদ্দিনকে এমবিবিএস পাশ করা সনদ দেখাতে বললে তিনি ডা.মাঈন উদ্দিন নামের এক ডাক্তারের সার্টিফিকেট দেখান।

কিন্তু চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প:প কর্মকর্তা ডা.শোভন দত্ত সেসব কাগজ যাচাই-বাছাই করে দেখেন গ্রেফতারকৃত ফরিদ উদ্দিন মুলত ডা.মাঈন উদ্দিনের সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে সিটি হাসপাতালের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ভুয়া ডাক্তার বলে স্বীকার করেন। সরকারি নিবন্ধনকৃত কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পাস না করেও দীর্ঘদিন ধরে নামের পাশে ডাক্তার লিখে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার সেজে তিনি নিরীহ রোগীদের বিভিন্ন জটিল রোগের ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। পরে ফরিদ উদ্দিন ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করলে এক বছরের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূয়া ডাক্তার দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে চকরিয়া সিটি হাসপাতাল। প্রাইভেট হাসপাতাল বলা হলেও এটি মূলত একটি অবৈধ ক্লিনিক। যেখানে চিকিৎসার নামে চলছে রমরমা গলাকাটা বাণিজ্য। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে প্রতারিত হয়েছেন অনেকেই, এমন অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। টাকা খরচ করেও উপযুক্ত সেবা না পেয়ে ক্লিনিকটিতে অনেক রোগীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সিভিল সার্জন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কোটি কোটি মাসোয়ারা দিয়ে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়সহ নানা সংকট এবং অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় মধ্যদিয়ে রোগীদের স্বজনদের সাথে চরমভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছে এই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

চকরিয়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলকে ২০১২ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই সিটি হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিক গড়ে তোলেন জামায়াত নেতা থেকে আওয়ামী লীগ বনে যাওয়া কয়েকজন।

কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতাকে ব্যক্তিগত সুবিধা দিয়ে তাদের ছত্রছায়ায় এ ক্লিনিকে ইচ্ছামতো নিয়মকানুন তৈরি করে বছরের পর বছর রমরমা বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। রোগী দেখার নামে মোটা অংকের ফি আদায়, মনগড়া ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট প্রদান, হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে অপারেশনসহ সবই হয় এই ক্লিনিকে। এমনকি চিকিৎসক না হয়েও ক্লিনিকের বয়-কর্মচারীরা সিজার করতে গিয়ে শিশু ও মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে অহরহ।

জরুরি বিভাগ, মানসম্মত যন্ত্রপাতি, ল্যাব টেকনোলজিস্ট ছাড়াই নামমাত্র বেতনে অনভিজ্ঞ নার্স, আয়া ও দারোয়ান দিয়েই চলছে এ ক্লিনিকের কাজ। অথচ ডিজিটাল সাইনবোর্ডে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদির কথা উল্লেখ করে রোগীদের আকৃষ্ট করছে তারা। এতে রোগীরা তাদের পাতা ফাঁদে আটকে নিঃস্ব হচ্ছেন। মাঝে মাঝে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কথা বলে মাইকিং করা হয়। অথচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কখনও মাসে দু-একবার আসেন, কখনও আসেন না। তবু তাদের নাম ব্যবহার করে এ ক্লিনিকটি নানা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।