• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ৩০ জুন, ২০২২ ৷

সুনামগঞ্জে সরকারি কর্মচারী আ.লীগের সভাপতি, তোলপাড়


❏ রবিবার, মে ২২, ২০২২ দেশের খবর, সিলেট

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: ছাতকে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক পদে দায়িত্বরত একজন সরকারি কর্মচারী আইন ও আচরণবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির করায় রাজনৈতিক অঙ্গণে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকালে আয়োজিত সম্মেলনে উত্তর খুরমা ইউনিয়নে দলীয় সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই উনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক শামসুর রহমানকে। তার বাড়ি ইউনিয়নের কাকুরা গ্রামে।

সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে এক যুগেরও বেশি সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও তিনি ছিলেন বলেও জানায় দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাতকের বুকারভাঙা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে উত্তর খুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশ ত্রিবার্ষক সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক।

সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান সরকারি কর্মচারি শামাসুর রহমান। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর সংসদ সদস্যের সাথে হাত উঁচিয়ে ফটোশেসন করেন শামসুর রহমান।

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ এর ২৫ নম্বর ধারার ১ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, “সরকারি কর্মচারী কোন রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোন অঙ্গসংগঠনের সদস্য হইতে অথবা অন্য কোনভাবে উহার সহিত যুক্ত হইতে পারিবেন না, অথবা বাংলাদেশে বা বিদেশে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করিতে বা কোন প্রকারেই সহায়তা করিতে পারিবেন না।”

আইনজ্ঞদের অভিমত, সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রণীত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক দলের পদে আসীন হয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক শামসুর রহমান চাকরির শর্ত ভঙ্গ করে স্বপদে থাকার আইনগত ও নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের জবাবদিহিতার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সুনামগঞ্জ জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “সরকারের বেতনভুক্ত জনস্বার্থে লিপ্ত থাকা একজন পরিপূর্ণ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও পদে আসীন হওয়ার জন্য দায়ী। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।”

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী রাজিব মোস্তফা বলেন, “শামসুর রহমান উত্তর খুরমা ইউনিয় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করার বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অফিসিয়ালি অবগত নই। এ বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুনামগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক নিরঞ্জন বন্ধু ধাম বলেন, “এমনটা হয়ে থাকলে ডেফিনেনরি এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন। আমার দৃষ্টিতে এ সংক্রান্ত প্রুফ আসলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে, একজন সরকারি কর্মচারীকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় ছাতকের রাজনৈতি অঙ্গণে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এর দায়ভার নিতে চাচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হোসেন সজল বলেন, “উত্তর খুরমা ইউনিয়নের সম্মেলন সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানতাম না। পরে শুনেছি, আমাদের সংসদ সদস্য তাঁর অনুসারীদের দিয়ে কমিটি করে করেছেন। এবং সেখানে একজন সরকারি কর্মচারীকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “একজন আইনপ্রণেতার উপস্থিতিতে দলের নাম ব্যবহার করে এ জাতীয় বেআইনি কর্মকান্ড দেখা আমরা বিস্মিত, ক্ষুব্ধ হয়েছি। এর সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনপ্রকার সম্পৃক্ততা নেই। এতে দলের যে বদনাম হচ্ছে তার দায়ভারও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের নজরে নিয়ে আসব।”

এ ব্যাপারে শামসুর রহমানের বক্তব্য নিতে ফোন দেওয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে ফোন দিবেন বলেন লাইন কেটে দেন।