• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ৩০ জুন, ২০২২ ৷

সিলেটে পানি কমছে, দুর্ভোগ বাড়ছে

Sylhet news
❏ রবিবার, মে ২২, ২০২২ সিলেট

আবুল হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (সিলেট): সিলেটে পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দী আছে নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি উপচে প্রবেশ করে নগরের বিভিন্ন এলাকায়। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি নামতে না পেরে জলাবদ্ধতা হয়।

শনিবার রাত থেকে এসব পানি কমতে শুরু করেছে, তবে দুর্ভোগও রয়ে গেছে। ঘরের মালামাল গোছানো থেকে শুরু করে ঘরের ভেতরে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে ব্যস্ত সময় পার করছে বাসিন্দারা।

গত মঙ্গলবার থেকে সিলেট নগরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে বাসিন্দাদের। অনেক বাসিন্দা বাসাবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিল।
পানি নামতে শুরু করলেও বেশ কিছু এলাকা এখনো জলাবদ্ধ। সেসব এলাকার বাসিন্দারা রয়েছে আরও সমস্যার মধ্যে। পানি কমতে থাকায় ও বেশ কিছুদিন ধরে পানি একই স্থানে থাকায় পানির সঙ্গে ময়লা মিশে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, তালতলা, জামতলা, মণিপুরি রাজবাড়ি এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। প্রধান সড়কগুলোতে পানি কমে গেলেও পাড়া-মহল্লার ভেতরে এখনো রয়ে গেছে পানি। জমে থাকা পানিগুলো কয়েক দিন একই স্থানে থাকায় কালো রং ধারণ করেছে। সেগুলো থেকে বের হচ্ছে উৎকট গন্ধ।

নগরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা হিমাংশু রায় বলেন, ‘পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখন কষ্ট আগের তুলনায় বেড়েছে। ঘরে যেতে হলে কালো ময়লা পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। আবার এখন ঘরের আসবাব, মালামাল গোছাতে সময় দিতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, নতুন করে বাসায় উঠেছি।’

মণিপুরি রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ঝুমা পাল বলেন, ঘরের সামনে ও ভেতরে জমে থাকা পানি কমেছে। কিন্তু দুর্ভোগ রয়ে গেছে। ঘরের মেঝে মাটির হওয়ায় সেগুলো কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। এখন সেখানে ইট বিছিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূর্যের তাপে শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত এমন অবস্থায় চলাফেরা করতে হবে।

শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা সাঈদ আহমদ বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রিকশায় করে পানি মাড়িয়ে চলতে অনেক বেশি বাড়তি ভাড়া দিতে হয়। সাধারণত উপশহর পয়েন্ট থেকে বি ব্লকে যেতে ২০ টাকায় চান রিকশাচালকেরা। এখন তাঁরা ১৫০ টাকা চাচ্ছেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে দুটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল নয়টায় পানি ছিল ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ছিল ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে সকাল ছয়টায় ছিল ১০ দশমিক ৯৩ সেন্টিমিটার। নদীর পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। সেখানে রোববার সকাল নয়টায় পানি ছিল ১৬ দশমিক ৭২ সেন্টিমিটার। নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য ৫, সেখানে সকাল নয়টায় ছিল ১৩ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার।