🕓 সংবাদ শিরোনাম

করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় ৪ জনের মৃত্যু * বিশ্বের ১১০টি দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা * গাইবান্ধায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ ২জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ * বন্যাদূর্গত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মুফতী মুনীর উদ্দিনের নেতৃত্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ * কক্সবাজারে যাবজ্জীবনসহ তিন জনের কারাদণ্ড * গাজীপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু * গাজীপুরে গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার * ডিসেম্বরেই পাতাল জয়, খুলবে ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ * ২০২৩ সালে উদ্বোধন হবে ঝিনুক আকৃতির রেলস্টেশন * টাঙ্গাইলে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের সমাপনী অনুষ্ঠান *

  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ আষাঢ়, ১৪২৯ ৷ ৩০ জুন, ২০২২ ৷

পানিতে ডুবে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

Tangail news
❏ মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২ ঢাকা

তোফাজ্জল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (টাঙ্গাইল): পানি বৃদ্ধির ফলে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে। আর জমিতে ভাসছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।

মঙ্গলবার বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ও বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া, মিরিকপুর, হান্দুলী, জিকাতলী পাড়া, সৈয়দামপুর, পৌলী, যৌতুকীতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

হাঁটু পানিতে নেমে ধান কাটছে কৃষকরা আবার কেউ কাটা ধান নৌকাযোগে উঁচু স্থানে তুলছে, আবার কেউ কাটা ধানগুলো পানিতে ভাসমান অবস্থায় ছড়িয়ে থাকা একত্রে করছে আবার কেউ কেউ ধান মাড়াই করছে। কৃষকরা ধান কাটার জন্য ব্যস্ত হয়ে পরেছেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৭১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে চাষ হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন।

জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, নাগরপুর, কালিহাতী, দেলদুয়ার ও বাসাইলের বিভিন্ন এলাকার জমিতে পানি প্রবেশ করেছে।

বাসাইল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কৃষক সজিব সরকার বলেন, দুই বছর আগে পানিতে ধান ডুবে গেছিল। এবছরও আমার জমিতে পানি ঢুকছে। এবছর ৩০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করছিলাম। ১ বিঘা জমি আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। আর ধান কাটতে ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এই ধান যদি ডুবে যায় আমরা কি খাব। আমরা বছরে দুইটা ফসল চাষ করি। জমিতে সব ধান রয়ে গেছে। কি করুম কিছু বুঝতাছি না। দুই-তিনদিনের মধ্যে পানি এসে পরলো। ধান কাটা এখনো শেষ করতে পারি নাই। ১ হাজার থেকে ১২’শত টাকা করেও শ্রমিক পাওয়া যায় না।

জিকাতলী পাড়া গ্রামের চাষি সাধন সরকার বলেন, আমার প্রায় জমিতে পানি উঠেছে। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতেছি। এক হাজার টাকা মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমি গুলোতে পানি উঠে যাবে। আর নিচু জমির ধান না কাটতে পারলে ডুবে যাবে। বাতাসে ধান নিয়ে গেছে। ধানের দাম কম আর শ্রমিকের দাম বেশি। একদিকে শ্রমিকের দাম বেশি আরেক দিকে জমিতে পানি উঠেছে। খাওয়ার জন্য তো ধান কাটতে হবে। ধান যদি না কাটতে পারি বউ পোলাপান নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। এবছর ২৫০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম।

কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বিজয় সরকার বলেন, জমিতে পানি উঠেছে। হাঁটু জলের মধ্যে ধান কাটতেছি। যদি ধান না কাটতে পারি তাহলে জমির ধান ডুবে যাবে। ১২০০ টাকা করে শ্রমিক তাও পাওয়া যায় না। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমিতেও পানি উঠবে। এবার ধান আবাদে করে কৃষক লোকসানের মুখে পরবে। এ ধান যদি ডুবে যায় তাহলে আমরা কি খাবো। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাসার জানান, চলতি মৌসুমে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। রোগ ও পোকার আক্রমণ ছিলো না বললেই চলে। ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৬ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। এখন যেভাবে ধান কাটা চলছে তাতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ কাটা শেষ হবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ ভর্তুক্তিতে ৫০টি কোম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সেগুলো ধান কাটার কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আশেপাশের জেলা থেকে মেশিন এনে ধান কাটা হচ্ছে।