🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ২৫ শ্রাবণ, ১৪২৯ ৷ ৯ আগস্ট, ২০২২ ৷

ঝালকাঠিতে দুই ভাইকে নিয়ে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীসহ আটক-৩

Jalakhathi news
❏ সোমবার, জুন ২০, ২০২২ ঢাকা

মো. নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটিতে নরসুন্দর পংকজ শীল (৩২) হত্যার ঘটনায় ৭ দিন পর স্ত্রী সোনালী শীলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নলছিটি থানা পুলিশ।

রবিবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার বারইকরণ গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তারা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন রাতে জগন্নাথপুর গ্রামের পোনাবালিয়া বাজারের পাশের খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নরসুন্দর পঙ্কজ চন্দ্র শীলের (৩২) ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয় । এ ঘটনায় পরের দিন পঙ্কজের বাবা নরেন্দ্রনাথ শীল বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশের ধারণা তাকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এরই সূত্রধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। রবিবার রাতে পুলিশ পঙ্কজ শীলের স্ত্রী সোনালীকে (৩২) বারইকরণ গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার স্বামী সব সময় নেশা করতো এবং আমার ভাইয়ের বউ, আমার চাচী সবার দিকে কুনজর দিতো।এ নিয়ে আমার সাথে প্রায়ই তার সাথে ঝগড়া হতো, এমনকি আমাকে মারধরও করতো। প্রায় সময়ই তাদের বিভিন্ন ভাবে নেশা জাতীয় (সেক্স এর ঔষধ) টেবলেট খাওয়াইতো। এরপর নিরুপায় হয়ে আমি ও আমার দুই চাচাতো ভাই মিলে স্বামীকে গলায় গামছা পেচিয়ে হত্যা করি। পুলিশ তার স্বীকারক্তি অনুযায়ী তার দুই চাচাতো ভাই বিশ্বজিত চন্দ্র শীল (২২) ও শুভ শীলকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তারাও প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করে।

নিহত পঙ্কজ চন্দ্র শীল ঝালকাঠি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে একটি সেলুনে কাজ করতেন। সে শহরের বাহের রোড এলাকার নরেন্দ্রনাথ শীলের ছেলে। তিনি বারইকরণ শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করতেন। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না বলেও জানায় পুলিশ।

নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঃ আতাউর রহমান বলেন, মাত্র সাত দিনের মাথায় ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। আটককৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন।