🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ২৫ শ্রাবণ, ১৪২৯ ৷ ৯ আগস্ট, ২০২২ ৷

কামরাঙ্গীরচরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে খুন ১; আহত ২


❏ শনিবার, জুন ২৫, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ, ঢাকা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে কিশোর গ্যাংয়ের দুইগ্রুপের দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে জীবন চৌধুরী (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাফি আহমেদ (১৮) ও মো. বিজয় (১৭) নামে আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচর কলেজ রোডে মোবাইল হারানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি ঘটনায় তিনজনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে । আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

এরপর আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় জীবন।

নিহত জীবন কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার পশ্চিমঘর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। বর্তমানে তিনি কামরাঙ্গীরচর কলেজ রোডে নুরু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

নিহত জীবনের বাবা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘জীবন দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। বর্তমানে স্থানীয় একটি কারাখানায় কাজ করত। রাতে কলেজ রোডে একটি মারামারির ঘটনা শুনতে পাই। তবে কী নিয়ে মারামারি হয়েছে, তা জানতে পারিনি। তিন ভাই ১ বোনের মধ্যে জীবন ছিল বড়।’

নিহত জীবনের বন্ধু মো. নীরব বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজন মিলে কলেজ রোডে ক্রিকেট খেলি। পরে বিজয়সহ মোট আটজন বন্ধু কলেজের ১ নম্বর গেটে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় অন্য এলাকার প্রায় ৪০-৫০ জন সেখানে জড়ো হয় এবং সেখানে মোবাইলকে কেন্দ্র করে তাঁদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে নাজমুল, হৃদয়, বাবুসহ কয়েকজন বিজয়, রাফি ও জীবনকে ছুরিকাঘাত করে।’

নীরবের দাবি, ‘এর আগে তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঝামেলা ছিল না। তাঁরা দুই গ্রুপ মোবাইল নিয়ে মারামারি করে। আমরা বাঁধা দিলে আমাদের ওপর হামলা করে। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জীবনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, আহত অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছিল। এর মধ্যে জীবন নামে এক যুবক মারা গেছে। তাঁর পেটে, পাঁজরে ও পিঠে ছুরিকাঘাত ছিল।

বাচ্চু মিয়া আরও জানান, আহত রাফির বাম পাঁজরে ছুরিকাঘাত রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। আহত বিজয়ের হাতে আঘাত ছিল। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একটি মোবাইল হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি ঘটনায় ছুরিকাঘাতে তৃতীয় পক্ষের একজন মারা যায়। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘ওই এলাকার নোমান নামের একজনের মোবাইল হারিয়ে যায়। এই বিষয়ে তাঁর রুমমেট শামীমকে সন্দেহ করে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে শামীম নোমানের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে নোমান তাঁর বন্ধু হৃদয় ও বাবুসহ কয়েকজন মিলে গতকাল শুক্রবার রাতে কলেজ রোডে একটি গলিতে শামীমের ওপর হামলা করে। ঘটনার সময় সেখানে অবস্থান করা এলাকার কয়েকজন ছেলে তাঁদের বাধা দেয় মারামারি না করার জন্য। একপর্যায়ে হৃদয়, বাবু ও নোমান মিলে জীবনসহ তিনজনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে জীবন মারা যায়।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নোমান শামীমসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।’