কক্সবাজারে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

Cox's Bazar news
❏ রবিবার, জুলাই ৩, ২০২২ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার):কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে ওয়ার্ড আ.লীগের সম্মেলন চলাকালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে ফয়সাল উদ্দিন (২৬) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন।

রোববার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে খুরুশকুলের ডেইলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকা মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। সে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

রাত ৮টার দিকে মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশিকুর রহমান। ঘটনার পর কক্সবাজার ছাত্রলীগ শহরে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।

খুরুশকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর আ.লীগের যুগ্ন আহবায়ক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, রোববার দুপুরের দিকে খুরুশকুল ইউনিয়নের আওতাধীন ২নং ওয়ার্ডের সম্মেলন চলছিল। সেখানে যোগ দিতে যান নিহত ফয়সাল উদ্দীন। তাকে সম্মেলন স্থলের বাইরে দেখে ধাওয়া দেয় ডেইল পাড়ার আজিজ সিকদার ও জহিরের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী। ধাওয়া খেয়ে মঞ্চে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে গিয়ে আশ্রয় চান। এক পর্যায়ে মঞ্চস্থলে যায় হামলাকারীরা। সেখানে হামলা করতে না পেরে বাইরে অবস্থা নেয় হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতারা মঞ্চস্থল ত্যাগ করে। নিরুপায় নিহত ফয়সাল উদ্দীনও মঞ্চস্থল থেকে বাইরে যায়। সেখানে ওৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা ফয়সাল উদ্দীনের উপর হামলে পড়ে। তারা তাকে উপর্যপুরি কোপায়। এসময় তার সাথে আরো কয়েকজনকেও আঘাত করে । হামলা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। পরে মুমূর্ষূ ফয়সাল উদ্দীনকে কক্সবাজার আনা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের তাকে মৃত্য ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

চেয়ারম্যান জসিম আরোও জানিয়েছেন, এক বছর আগে হামলাকারী আজিজ সিকদারের এক ভাতিজা খুন হয়। সে মামলার আসামী ছিলেন নিহত ফয়সাল উদ্দীন। পরে সে মামলা থেকে বাদ যায়। এই ঘটনার জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) শেখ মুনীরুল গিয়াস বলেন, হামলা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। তবে ততক্ষণে ঘটনা সংঘটিত হয়ে যায়।

স্বজনদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও সদর আ.লীগের জ্যেষ্ঠ নেতার আশ্রয়ে থাকেন। হামলার সময় অদূরেই পুলিশ ছিলো। হামলা করে পুলিশের সামনে বীরদর্পে চলে যায় হামলাকারীরা। একইভাবে আওয়ামী লীগ নেতারাও ফয়সালকে একা ফেলে মঞ্চস্থল ত্যাগ করেন বলেও স্বজনরা অভিযোগ করেন।