রংপুরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তি ২০


❏ বুধবার, জুলাই ৬, ২০২২ রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর: হঠাৎ করে শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। তাও আবার এক-দুদিন নয়, টানা ছয় দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে।

বাকি সময়টা লোডশেডিংয়ে হাঁপিয়ে উঠছে জনজীবন। রংপুরসহ বিভাগের পুরো আট জেলার নগর-বন্দর, হাট-বাজার ও গ্রামে বিদ্যুৎ নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

এদিকে প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে বয়ষ্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।

অসহনীয় এই লোডশেডিংয়ের কবল থেকে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে- তার কোনো সদুত্তরও নেই বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে। তবে গ্যাস ও ডিজেল সংকটের কারণে দেশের অন্যান্য জায়গার মতো রংপুর বিভাগেও ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ মানুষসহ সচেতন মহল বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে সারা দেশের মধ্যে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। যা একেবারে অসহনীয় পর্যায়ে ঠেকেছে। শুধু জীবনই অতিষ্ঠ নয়, এর প্রভাব ছোট-বড় কলকারখানা ও ব্যবসায় পড়তে শুরু করেছে।

অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে যোগ হওয়া প্রচণ্ড গরমে হাপিতাস করছে পুরো বিভাগ। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ ছোট বড় শত শত কলকারখানা। ব্যঘাত ঘটছে উৎপাদন কার্যক্রমে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ঈদের বাজারে। বিলাস বহুল শপিংমল, বিপণী বিতানসহ ছোট-বড় মার্কেটগুলোতে বেচাকেনায় মন্দাভাব দেখা গেছে। ঈদের মৌসুমেও ক্রেতার দেখা মিলছে না।

অভিযোগ রয়েছে, লোডশেডিং হয়ে তা কখনো কখনো তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে।

নেসকো লিমিটেডের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল-২ রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী জেলায় আমাদের চাহিদা ৬৭ মেগাওয়াট, আমরা পাচ্ছি ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, রংপুর জেলাসহ পুরো বিভাগে চার দিন ধরে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা শুধু রংপুরের সমস্যা নয়, সারা দেশেই একই অবস্থা।

রংপুর নগরীর কেরানিপাড়ার বাসিন্দা তাসনিম আক্তার জানান,বিদ্যুতের যে অবস্থা মনে হচ্ছে শহরে না আমরা গ্রামে বসবাস করছি।একদিকে তীব্র রোদ আরেক দিকে লোডশেডিং। ২০ মিনিট কারেন্ট থাকলে তিন ঘণ্টা পাওয়া যায় না। শুধু দিনের বেলা এ ভোগান্তি হয় না, রাতেও হয়। খুব দ্রুত এই সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত।

রংপুর জিলা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্ক্ষী আবরাব জাহিন বলেন, সামনে পরীক্ষা বিদ্যুত না থাকার কারণে পড়তে বসতে পারছি না। ফ্যান না চললে পড়ায় মন বসে না।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আরিফ আহম্মেদ বলেন, ওয়েল্ডিং, ঝালাই, বিদ্যুৎচালিত মোটর, মেকানিকের যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎনির্ভর কাজ ও ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। সামনে ঈদ এবাবে চললে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রংপুর বিভাগে নেসকো আর পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। দিনের বেলায় বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ মেগাওয়াটেরও কম। সন্ধ্যার পর থেকে চাহিদা ৭০০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ মেগাওয়াট।