🕓 সংবাদ শিরোনাম

গাজীপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ ডাকাত গ্রেফতার * নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আরও এক অস্ত্র-মাদক মামলার বিচার শুরু * আলোচিত সবুজ হত্যা: ফরিদপুরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সভাপতিকে গ্রেফতারের দাবী * নারায়ণগঞ্জে যৌতুকের মামলায় আইনজীবী গ্রেফতার * হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ইউপি কার্যালয় হয়ে গেল ‘সৌদি দূতাবাস’! * ত্রিশালে ফিসারীতে বিষ প্রয়োগ করে ৫০ লক্ষ টাকার মাছ নিধন * রংপুরে গৃহবধুকে অপহরণ মামলায় অপহরণকারীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড * বাহুবলে পরিমাপে কম দেওয়ায় দুই পেট্রল পাম্পকে জরিমানা * আলোচিত সেই শিশুকে এক মাসের মধ্যে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ * বাঙালির মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু: আইনমন্ত্রী *

  • আজ সোমবার, ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৯ ৷ ৮ আগস্ট, ২০২২ ৷

মহাসড়কের ত্রিশাল অংশই দূর্ঘটনার হটস্পট, ১ বছরে ১৩০টি দুর্ঘটনা

Trishal news
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৪, ২০২২ ময়মনসিংহ

মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ ) প্রতিনিধি: গত এক বছরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশে ১৩০ টি সড়ক দূর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। একের পর প্রাণহানির ঘটনায় এ অংশ দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে পরিনত হয়েছে। কোন ভাবেই থামছেনা  এ মৃত্যু যাত্রা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি।

চার লেনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশ এখন মৃত্যুফাঁদ বললেই চলে। ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের জুন থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ১৩০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আহতের সংখ্যা ৩১৭। এর মধ্যে পুরুষ ২২২, নারী ৮১, ও শিশুর সংখ্যা ১২। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মৃত্যুর হিসাব করলে এ সংখ্যাটা হবে অর্ধশতাধিক।

গত ২৮ জুলাই বিকালে মহাড়কের ত্রিশাল বৈলর মন্ডলবাড়ী এলাকায় আইল্যান্ডের উপরে গাছ ছাটায়ের কাজ করছিলেন সড়ক জনপথ বিভাগের শ্রমিক নুর আলম। নেত্রকোনাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে আইল্যান্ডের উপরে উঠে পিষে দিলে ঘটনাস্থলেই নুরে আলমের মৃত্যু হয়।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা গত ১৬ জুলাই ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালে কোর্ট ভবন এলাকায় ট্রাক চাপায় প্রাণ হারান জাহাঙ্গীর দম্পত্তি ও তাদের শিশু সন্তান সানজিদা। ওই সময় সড়কেই অন্তসত্ত্বা মায়ের পেট ফেটে ভূমিষ্ঠ হয় এক নবজাতক। এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সকলের মনকে নাড়া দেয়। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারের ফলে আলোচনার ঝড় ওঠে। তার পরও মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই।

গত বছর ১২ অক্টোবরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনা স্থলেই সহোদর দুই ভায়ের মৃত্যু হয়। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে ভোরে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন দুই ভাই। উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের কাজির শিমলা এলাকায় পৌঁছিলে, পেছন দিক থেকে একটি কাভার্ড-ভ্যান চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই সহোদরের। ওই দিন রাতেই ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস চাপায় অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়।

গত বছর ১৬ অক্টোবর রায়মনি গ্রামের চেলের ঘাটে দুটি বাস পাল্লা দিয়ে চলার সময় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য সহ সাত জন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ১২ জন।

গত বছর ২০ অক্টোবর সকালে মহাসড়কের উপজেলার বগার বাজারের কাছে ইউটার্ণ নেয়ার সময় গার্মেন্টস শ্রমিকবাহী লেগুনাকে পেছন থেকে একটি বড় গাড়ি ধাক্কা দিলে ১৪ জন যাত্রী আহত হয়। তাদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ১০ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির হোসেন ও রীমা আক্তার নামে দুইজনের মৃত্যু হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে এমন দূর্ঘটনা।

স্থানীয় আজাহারুল ইসলাম বলেন, চারলেন সড়ক হবার পর থেকে ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তাই ঝুঁকি নিয়েই আমাদের মহাসড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়ক দূর্ঘটনায় যাদের স্বজন হারায় একমাত্র তারাই জানে স্বজন হারানোর কষ্ট। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন প্রতিবারই দুর্ঘটনার কারণ জানিয়েই দায় সারছেন। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। না হলে লাশের সারি আরও দীর্ঘ হবে।

স্থানীয় রায়হান উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবৈধ ভাবে দখল করে ত্রিশালে অংশে রমরমা চলছে বালু ব্যবসা। রাস্তার একপাশ দখল করে ট্রাক ঘন্টার পর ঘন্টা বালু উঠানামা করছে পিচঢালা সড়কে। মহাসড়কে অবাধে চলছে অবৈধ থ্রি হুইলার ও তিন চাকার যান। এধরণের অসংখ্য কারণ রয়েছে সড়ক দূর্ঘটনার।নিয়মিত নজরদারি না থাকলে দূর্ঘটনা কোনোভাবেই কমানো সম্ভব না।

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশনঅফিসার রিয়াজ উদ্দিন জানান, মহাসড়কে দূর্ঘটনার কথা জানা মাত্রই আমরা উদ্ধার অভিযানে যাপিয়ে পড়ি। স্থানীয় পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সহায়তা করি। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরনে কাজ করে থাকি। তবে সড়কে আহতদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু তথ্য আমাদের কাছে থাকে না।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, ওভারলোড, ওভারটেকিং প্রবণতা, গাড়ির চাকার মান ঠিক না থাকা, মহাসড়কে কম গতির গাড়ি চলাচল ও কানেকটিং সড়ক থেকে গাড়ি উঠে আসায় দূর্ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ গাড়ির চাকা ৬ মাস বা এক বছর পরপর পরিবর্তন করার কথা থাকলেও তা না করায় ব্রেক ধরলেও ঠিকমতো কাজ হয়না। দ্রুত গতিতে চলার সময় ব্রেক ধরতে গিয়ে কাজ না হওয়ায় দূর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া মহাসড়ক থেকে থ্রি-হুইলার চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বন্ধ না হওয়ায় দূর্ঘটনা ঘটছে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে।

ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাইন উদ্দিন বলেন, অনভিজ্ঞ চালক, বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো ও অসাবধানতাই দূর্ঘটনার মূল কারণ। দূর্ঘটনা রোধে বেশ কয়েকবার বাস-ট্রাকের চালক ও শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতা মূলক সভা করেছেন তিনি।

এদিকে, গত রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ত্রিশাল পৌর মেয়রসহ ত্রিশালে মহাসড়কে নিরাপত্তা ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় সাতটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এইসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অবৈধ পার্কিং বন্ধ ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিয়মিত অভিযানঅর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

ত্রিশাল সহকারী কমিশনার ভূমি হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।