মানিকগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেপ্তার

manikganj news
❏ শুক্রবার, আগস্ট ৫, ২০২২ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট(মানিকগঞ্জ): নিজের নাম, পেশা ও জায়গা পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা পায়নি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের চাঞ্চল্যকর গর্ভবতি নিপা ও শিশুকন্যা জ্যোতি হত্যা মামলার প্রধান আসামী জাকির হোসেন (৪৭)।

র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস টিম ৪ আগষ্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলার সাভার থানার শাহিবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত জাকির বাউল নামে দীর্ঘ ১২ বছর আত্মগোপন করে পালিয়ে ছিল বলে র‌্যাব-৪ মানিকগঞ্জ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিঞ্জপ্তিতে জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জাকির ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর গ্রামের হানিফের কন্যা নিপা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে নিপাকে শারীরিক ও মানসিক চাপ দিতে থাকে পাষন্ড জাকির। তার পরও নিপার কোলে জ্যোতি নামের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।

জ্যোতির বয়স তিন বছর গড়াতে না গড়াতেই নিপা আবারো গর্ভবতী হয়। কিন্তু নারী লোলুপ জাকির বড় ভাই জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাহমিনার সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী রাতে জাহাঙ্গীরের অবর্তমানে তাহমিনার বসত ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে নিপা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির হোসেন তার গর্ভবতী স্ত্রী নিপা আক্তার ও ৩ বছরের কন্যা জ্যোতিকে ২৬ ফেব্রুয়ারী রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এ ব্যাপারে নিপার বাবা হানিফ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা রুজু করে। জাকির হোসেনকে প্রধান আসামী করে জাকিরের বাবা মা ভাবী সহ আরো কয়েবজনকে আসামী করা হয়। পুলিশ জাকির সহ চার্জশটি ভুক্ত ৪ আসামীকে গ্রেপ্তার করে। ৫ বছর পর জামিনে মুক্ত হয়ে সে ছদ্ধনামে পালিয়ে বেড়ায় ঢাকা চট্রগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। পরবর্তীতে হত্যা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ২০১৩ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করে সাভারের জিনজিরা এলাকায় বসবাস শুরু করে। দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসারে মাধুরী (৫) ও মারিয়া নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

র‌্যাব-৪ এর মানিকগঞ্জ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার লে: কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র‌্যাপিট এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ নিমূল ও মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি হত্যা খুন চাঁদাবাজি চুরি-ডাকাতি ছিনতাইকারী চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘব্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীদের গ্রেফতার করে সমাজে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ।

যার ধারাবহিকতায় ব্যার -৪ জাকিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, গোপন সংবাদেও ভিত্তিতে জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। সে নিজের নাম পেশা ও জায়গা পরিবর্তন করে এতদিন আত্নগোপনে ছিল।