বিত্তবানের নামে ২৫ কোটি টাকার খাসজমি বন্দোবস্ত,সার্ভেয়ার গ্রেপ্তার

Patuakhali news
❏ শুক্রবার, আগস্ট ৫, ২০২২ বরিশাল

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইউনও’র স্বাক্ষর জাল করে ৪২ বিত্তবানের নামে ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৭২ একর সরকারি খাসজমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে দেয়ার মূলহোতা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে কলাপাড়া থানা পুলিশ।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হকের দায়ের করা অভিযোগর ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশালের রুপাতলী আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার হয়েছে। শুক্রবার সকালে আদালতের
মাধ্যমে হুমায়ুনকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জসিম।

আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় তিনটি স্মারকে মুজিব শতবর্ষে গৃহহীন ভূমিহীন পরিবারকে দুই শতক খাস জমিসহ ১৯৫টি সেমিপাকা ঘর প্রদান করা হয়। চুরান্ত তালিকায় থাকা এই ১৯৫টি বন্দোবস্ত কেসের কবুলিয়ত দলিল রেজিষ্ট্রী করা হয় খেপুপাড়া সাব-রেজিষ্ট্র্রী অফিস থেকে। কিন্তু সহকারী কমিশনার(ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির জালিয়াতির মাধ্যমে এ
বন্দোবস্ত কেসের সাথে ৪২টি বিত্তবান শ্রেণির কথিত ভূমিহীনের নাম অন্তর্ভূক্ত করে তাদের নামে ৭২ একর ৬৩ শতাংশ খাসজমির দলিল রেজিষ্ট্র্রী সম্পন্ন করে।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ২২টির স্থলে ৩১টি, ২৪ এপ্রিল১২০টির স্থলে ১৩২টি এবং ১৯ মে ৫৩টির স্থলে ৭৪টি কবুলিয়াত দলিল
করা হয়। সম্পাদনকৃত এই ৪২টি দলিলে সর্বনি¤œ এক থেকে সর্বোচ্চ তিন একর করে খাসজমি বন্দোবস্ত দেখানো হয়েছে। ১৯৫৯-১৯৬০ থেকে ১৯৮৭-১৯৮৮ সালের তালিকার কেস নম্বর থেকে ৪২টি নামে এই পরিমান খাসজমি মুজিব শতবর্ষের তালিকায় ঢুকিয়ে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে। যার অনুমোদন নিতে হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও। কবুলিয়াত দলিল
রেজিষ্ট্রী সম্পন্ন করতে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দ্বায়িত্বপালনকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হকের সই স্ক্যানিং করে ব্যবহার করেন।

এ ঘটনার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মোবাইল বন্ধ করে গাঁ ঢাকা দেয় সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির। ঘটনার পরপরই সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন কলাপাড়ার ইউএনও। ৪ আগস্ট কলাপাড়া থানায় হুমায়ুন কবিরকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা নং-৭।

এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসের নকল নবিস মোসা: হাওয়া বেগম, দলিল লেখক মো: আনোয়ার হোসেনকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। ১২জন নকল নবিসকে অফিসিয়াল কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: ওবায়দুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্তে আমার সাথে জেলা রেজিষ্ট্রার ও পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম বলেন, গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার হুমায়ুনকে শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।