মেহেরপুরে গাংনী উপজেলার মাঠপাড়া করমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লকের কাজে জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজশে অনিমের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। তদন্ত করে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা।
জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে করমদী মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ওয়াশ ব্লকের কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরিফুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজ। এখানে জনগণ কাজে অনিয়ম দেখতে পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় জনগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিম্নমানের কাজ পুনরায় সঠিকভাবে করার দাবি করেন।
স্থানীয়রা বলেন, গাংনী উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের যোগসাজশে মাঠপাড়া করমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ওয়াশ ব্লকের কাজ করছে ঠিকাদার।
করমদী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ধলা মিয়া বলেন, এত নিম্নমানের কাজ মানুষ কিভাবে করে।কলামে হাত দিতেই আস্তে আস্তে খসে পড়ে যাচ্ছে।বালি অনেক বেশি দিয়েছে সেই তুলনায় সিমেন্ট দেয়নি বললেই চলে। এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ আলী বলেন, আমরা সকালে এসে দেখছি বিদ্যালয়টিতে লোকজন ভিড় করে আছে। ভিতরে গিয়ে দেখি লোকজন কলামে হাত দিয়ে টোকা দিলে খোয়া,বালি ঝরে পড়ছে।এই কাজে সিমেন্ট খুব কম ব্যবহার করেছে। বালির পরিমাণ বেশি দেয়ার কারণে এমন হয়েছে।ভিত্তিই যদি খারাপ হয় তাহলে এই ঘর টিকবে কি করে। এ ধরনের কাজ জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। এখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকবে। তাই আমরা কাজ পুনরাই করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
করমদী মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে কলামের খোয়া বালি খুলে পড়ছে।অনিয়ম হচ্ছে দেখে স্থানীয়রা এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার আরিফুল ইসলামকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
গাংনী উপজেলা জনস্বাস্থ্যের সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, সরেজমিনে গিয়ে কোন অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন, তদন্ত করে অনিয়ম পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।কোন ধরনের অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা যাবে না।
এসআর