চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড)-এর ব্যস্ততম ফ্রিপোর্ট মোড়ে সোমবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হওয়া শ্রমিকদের বিক্ষোভ অবরোধে রূপ নেয়, যা রাত ৯টা পর্যন্ত চলেছে। বেতন-বোনাসের দাবিতে জেএমএস গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা টানা ১০ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন, যার ফলে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সীমাহীন যানজট সৃষ্টি হয়।
জেএমএস গ্রুপের মালিকানাধীন জেএমএস গার্মেন্টস গত ৪ মার্চ লে-অফ (সাময়িক বন্ধ) ঘোষণা করে, যার কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ কাজের সংকট ও ব্যাংকিং জটিলতার কথা জানায়। শ্রম আইন অনুযায়ী, লে-অফ চলাকালীন শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন-বোনাস ২০ ও ২৩ মার্চ পরিশোধ করার কথা থাকলেও, নির্ধারিত তারিখে তা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ অর্থ পরিশোধের ঘোষণা আসলেও ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এই প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারেননি।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে দেখতে পান, সেখানে তালা ঝুলছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ফ্রিপোর্ট মোড়ে এসে প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। ধীরে ধীরে শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং দুপুরের মধ্যে তারা সড়কের উভয় পাশে ব্যারিকেড গড়ে তোলেন।
এতে পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং, সল্টগোলা, নিমতলা, কাটগড়সহ নগরের প্রধান প্রবেশমুখগুলোতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও আমদানি-রপ্তানির মালবাহী যানবাহনের চালকরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েন।
শ্রমিকদের আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে দুপুরের পর থেকে শিল্প পুলিশ, ইপিজেড থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফ্রিপোর্ট মোড়জুড়ে ছিল পুলিশের সতর্ক অবস্থান, তবে তারা কোনো বলপ্রয়োগ করেননি।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সোলায়মান সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, "আমরা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছি যে, আগামীকাল তাদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হবে। কিন্তু তারা আজকের মধ্যেই অর্থ চান, যা এখন সম্ভব নয়।"
তিনি আরও জানান, কারখানার মালিক ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং ব্যাংক থেকে লোনের আবেদন করেছেন, যার মাধ্যমে আগামীকাল বেতন পরিশোধ করা হবে।
জেএমএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মরহুম মাহমুদ আলী রাতুল, যিনি ১৯৯৪ সালে ফ্যাশন প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। ২০২১ সালে তার মৃত্যুর পর ছেলে মুস্তফা মাহমুদ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেন।
বর্তমানে জেএমএস গ্রুপের তিনটি পোশাক কারখানা রয়েছে, যেখানে প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে সিইপিজেডের ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত জেএমএস গার্মেন্টস কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
এনআই