মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে বোমা হামলার হুমকি দিলেন, তখনই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ভূমি বা আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে পারবে না।
এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা। ট্রাম্প প্রশাসন ইয়েমেনের হুথিদের ওপর ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের ওপর যে চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল তাতে বড় বাধা হয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের এমন সিদ্ধান্ত।
একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, ‘তারা এই সংঘাতে জড়াতে চায় না।’
মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছেন। এ সময় কাতারকে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং সৌদি আরবকে উন্নত অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।
গালফ দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। অতীতে ইরাকে হামলার সময়ও এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
ইরান এরই মধ্যে দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার হুমকি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার, তবে রাশিয়া ও চীনের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান ভারত মহাসাগর থেকে হামলা চালাতে পারে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক চুক্তিতে না আসে, তাহলে ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ’ হামলা চালানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে এবং অন্তত ৪০,০০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি শুধুই চাপ সৃষ্টি নাকি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
পিএম