ভালুকায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী পথসভায় উন্নয়নবঞ্চনা, ভোটের মর্যাদা ও জনপ্রতিনিধিত্বের নতুন ধারণা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। তিনি বলেন, “ভালুকার এমপি যদি আমি হই, তাহলে এমপি চলবে আপনাদের কথায়। আপনারাই মালিক, আমি শুধু প্রতিনিধি।”
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা মাঠে একটু আমার জন্য কাজ করে দেন। আমার জন্য নয়, আপনাদের নিজেদের জন্য। আপনারা সবাই এমপি ক্যান্ডিডেট—আমি একা নই।”
মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, এ নির্বাচন কোনো প্রতীকের নয়, এটি ব্যক্তির নির্বাচন। মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে এবং কাকে দায়িত্ব দেবে, সেটাই এখানে মুখ্য। তিনি দাবি করেন, ভালুকা পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব সমান। একটি ওয়ার্ডের ভোট যেমন অবহেলা করা যায় না, তেমনি কোনো ইউনিয়নকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকের এই রাস্তাগুলো দেখুন—এগুলো মিল-ফ্যাক্টরি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা করেছে। সরকারিভাবে আমাদের এলাকায় একটি রাস্তাও করা হয়নি। শুধু নেওয়া হবে, বিনিময়ে কিছুই দেওয়া হবে না—এটা আর চলতে পারে না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণ এত ভাড়া দিয়ে চলবে কেন, বিনিময়ে তারা কী পাচ্ছে?
ভৌগোলিক তুলনা টেনে তিনি বলেন, ভালুকা থেকে টাঙ্গাইল সীমান্ত, কুড়াহাটি, শ্রীপুর, গফরগাঁও কিংবা ধীতপুরের দিকে গেলে দেখা যায়, সেসব এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ দৃশ্যমান। অথচ ভালুকা বারবার উন্নয়নবঞ্চিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, গত চারটি নির্বাচনে এই এলাকার মানুষ দেখেছে—৭০ থেকে ৮০ জন প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ করত, বিশেষ করে জামিরদিয়া ও ডুবালেটের ঘাট এলাকায়। তবুও চেয়ারম্যান নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পিছপা হয়নি। ভয় বা চাপ নয়, ভালুকার মানুষ সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছে।
ইখা