ইরানের চাবাহার বন্দরে অর্থায়ন বন্ধ করলো ভারত। ২০২৬ অর্থবছরের দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেটে এই বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে বার্ষিক ১০০ কোটি রুপি করে বরাদ্দ দিচ্ছিল দিল্লি। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের অন্যতম কৌশলগত সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও বৃহত্তর অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত যোগাযোগ জোরদারে এই বন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছিল ভারত। ওমান উপসাগরের মুখে অবস্থিত চাবাহার ইরানের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর, যা দেশটিকে সরাসরি বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত করে।
ইরানের কাছে চাবাহার ছিল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরির সুযোগ। আর ভারতের জন্য এটি ছিল পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র কার্যকর রুট, কারণ ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপড়েনে ভারতকে এই প্রকল্প থেকে দূরে নিয়ে গেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও চাবাহার প্রকল্পে ভারতকে জন্য ছয় মাসের ছাড় দিয়েছিল। সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ এপ্রিল।
গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চাবাহার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর একটি চিঠির মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের বিষয়টি জানায়, যা ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। এতে ভারতের জন্য চাবাহার বন্দর প্রকল্পে যুক্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অবশেষে নতুন অর্থবছরে চাবাহার বন্দরে অর্থায়ন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিলো দেশটি।
এবি