কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের ২০ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত র্যাব–১৪ কিশোরগঞ্জ ও র্যাব সদর দপ্তরের যৌথ একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মো. মুস্তাফিজুর রহমান (৪৫)–কে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া মো. মোতাহার হোসেন (২৭), মো. মিজানুর রহমান (৩০), মো. রনি (২৬), মো. বাদল মিয়া (৪৭), মো. হৃদয় মিয়া (২৫), মো. ফয়সাল (২২), আব্দুর রহমান (২৫), মো. হাফিজ হোসেন (৩০), মো. সাগর আহমেদ (৩৫), মো. শামিম মিয়া (৩১) ও মো. রাফসান (২৩)–কে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মো. মাসুদ রানা (৩৮), মো. রাসেল মিয়া (৩২), মো. শাফায়াতুল খালেক সাইফুল (৩৮), মো. অজুল মিয়া হৃদয় (২৫), মো. নাদিম মিয়া (২৮) ও মো. ইমন (২০)–কে ১৫ দিন করে এবং মো. সেলিম মজুমদার ও মো. মাহফুজকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ফরম সত্যায়ন, কাগজপত্রে ঘাটতি দেখানো এবং ভেরিফিকেশন ছাড়াই দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আদায় করে আসছিল। দালালদের প্রস্তাবে রাজি না হলে বিভিন্ন কৌশলে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করা হতো।
র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, অভিযানের আগে সিভিল পোশাকে থাকা র্যাব সদস্যদের কাছেও দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা টাকা দাবি করে। এ ছাড়া পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকেও সরকারি ফি ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে দালালদের যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ইখা