এইমাত্র
  • ইরানের চাবাহার বন্দরে অর্থায়ন বন্ধ করল ভারত, নেপথ্যে যে কারণ
  • অবশেষে হাদি হত্যার দায় স্বীকার করলেন রুবেল
  • রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১০ লাখ ডলার অনুদান দিলো নরওয়ে
  • ধানের শীষের প্রচারণা শেষে ফেরার পথে কয়েক রাউন্ড গুলি!
  • জীবননগরে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন
  • দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
  • শহীদের বোনের মাটির ব্যাংক ও ডিম উপহার, মঞ্চে অশ্রুসিক্ত ফখরুল
  • ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও মার্কিন হুমকি নিয়ে প্রশ্ন তুলল রাশিয়া
  • জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ
  • পাকিস্তানে বোমা ও বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৩
  • আজ রবিবার, ১৮ মাঘ, ১৪৩২ | ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খানসামার কৃষক

    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

    সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খানসামার কৃষক

    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

    দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাশুলী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে এলাকায় সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এই লাউ ইতোমধ্যে বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তাঁর এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)–এর আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের জৈব ও আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসেবে খানসামার বাশুলী গ্রামে ২০ শতক জমিতে জৈব সবজি উৎপাদনের একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। এই প্রদর্শনী কার্যক্রমে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন কৃষক আমিনুল ইসলাম।

    আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি মোট ১০০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২০ শতক জমিতে জৈব পদ্ধতিতে প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। লাউ চাষে তাঁর মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ ব্যয়ের মধ্যে বীজ, মাচা তৈরি, জৈব সার, শ্রমিক ও পরিচর্যা খরচ অন্তর্ভুক্ত।

    তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে লাউ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা আয় করেছেন। জমিতে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ লাউ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ফলন বিক্রি করে আরও আনুমানিক ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। সুপার গ্রিন জাতের লাউ দেখতে আকর্ষণীয়, আকারে বড় এবং ওজন বেশি হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।’

    স্থানীয় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ লাউয়ের তুলনায় সুপার গ্রিন জাতের লাউ ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করছে। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই লাউ কিনে নিচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ কমছে এবং কৃষকেরাও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমিনুল ইসলামের এই সাফল্য দেখে অনেকেই আগামী মৌসুমে সুপার গ্রিন জাতের লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বাশুলী গ্রামের এক কৃষক বলেন, ‘এত অল্প খরচে যদি এত লাভ হয়, তাহলে লাউ চাষ অবশ্যই লাভজনক। আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এই জাতের লাউ চাষ করব।’

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত চাষাবাদ, জৈব পদ্ধতির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তা পেলে অল্প জমিতেও কৃষকরা স্বাবলম্বী হতে পারেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘সুপার গ্রিন জাতের লাউ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় এই জাতের লাউ চাষে ঝুঁকি কম। সঠিক সময়ে চাষ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে অল্প জমিতেও ভালো লাভ করা সম্ভব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জৈব ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা হচ্ছে। জৈব সবজি উৎপাদন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকেরা হাতে-কলমে শিখছেন কীভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদন করা যায়।’

    সংশ্লিষ্টদের মতে, আমিনুল ইসলামের মতো সফল উদ্যোগ কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…