বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন বাকি, কিন্তু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত জটিলতা এখনো কাটছে না। বাংলাদেশ দলকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর যে উত্তেজনা শুরু হয়েছিল, তা এখন পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় নাম সুনিল গাভাস্কার আইসিসিকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন।
ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ দ্বন্দ্ব ক্রিকেটে সরাসরি প্রভাব ফেলেনি, কিন্তু এক দশক আগে থেকে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০১২-১৩ মৌসুমে পাকিস্তান ভারতে এসে দুটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে খেলে—এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে। এরপর শুধুমাত্র আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টে তারা মুখোমুখি হয়।
দুই দেশের ক্রিকেট ম্যাচগুলো দর্শক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় আইসিসিও সবসময় চেষ্টা করে কোনো টুর্নামেন্টে তাদের একই গ্রুপে রাখার। কিন্তু মোস্তাফিজ বাদ ও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে পরিস্থিতি চরমে উঠলে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে জায়গা দেয়। পাকিস্তান এটি দ্বিচারিতা হিসেবে দেখেছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন উঠেছিল। পরে পাকিস্তান সরকার দলকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপর থেকেই বিতর্ক থামেনি।
এবার ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনিল গাভাস্কার ইন্ডিয়া টুডেকে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আইসিসিকে আগামীর জন্য এই ধরনের সমস্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখার চেষ্টা না করে, ড্র যেভাবে হয় সেভাবেই আইসিসির এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
গাভাস্কার জানান, ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের কোনো পর্যায়ে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু তারা ভিন্ন গ্রুপে থাকায় তা হয়নি। তখন থেকেই দুই দলকে একই গ্রুপে রাখার প্রবণতা চলে আসছে।
একই সঙ্গে গাভাস্কার পাকিস্তানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের খেলার ধরন ও ফলাফল তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ভারত দুই পয়েন্ট পাবে, এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ে ভারত অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করবে না, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সহজেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে।
এবি