মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সবশেষ দেড় হাজারের বেশি মৃতদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৯ মার্চ) এএফপির বরাতে বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপ আটকে থাকার পর ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, তাকে স্ট্রেচারে বিধ্বস্ত ভবন থেকে বের করে আনা হয়। তার স্বামী তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তারপর হাসপাতালে নিয়ে যান।
88মিয়ানমারে ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
উদ্ধারের সময় অপেক্ষা করতে করতে তার স্বামী এএফপিকে বলেন, শুরুতে আমি ভাবিনি যে, সে বেঁচে থাকবে। আমি খুব খুশি, আমি ভালো খবর শুনেছি।
এর আগে লাইভ প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, উদ্ধারকর্মীরা মায়ানমারের মান্দালয়ে একটি ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের নিচে আটকা পড়া ৯০ জনকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন।
পার্শ্ববর্তী দেশটি ইতোমধ্যেই একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে বিশাল মানবিক সংকটে পড়েছে। নতুন করে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে চলমান সঙ্কট আরও কঠিন এবং বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ত্রাণ প্রচেষ্টাও জটিল হয়ে উঠেছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার উৎপত্তিস্থল মান্দালয়ের খুব কাছেই ছিল। এরপর বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে একটি ছিল ৬.৪ মাত্রার। এর ফলে অনেক এলাকার ভবন ধসে পড়ে, রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ে, সেতু ভেঙে পড়ে এবং বাঁধ ভেঙে যায়।
রাজধানী নেপিদোতে শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য কর্মীরা কাজ করছেন। যদিও শহরের বেশিরভাগ অংশে বিদ্যুৎ, ফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ।
ভূমিকম্পের ধসে পড়া ভবনগুলোর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের থাকা জায়গা ছিল - এমন একাধিক ইউনিটও রয়েছে। এছাড়া শহরের বড় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এফএস