এইমাত্র
  • ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মাঠে নামলে কোটাবিরোধীরা টিকতে পারবে না’
  • বৈষম্য দূর করার জন্যেই কোটার প্রয়োজন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
  • এ সপ্তাহে রাজধানীতে বাড়তে পারে যানজট: ডিএমপি
  • কুমিল্লায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে আহত করলো দুর্বৃত্তরা
  • ‘মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো যাবে না’
  • বাসা থেকে দেড় কোটি টাকা চুরি, ৪ দিন পর জানা গেল মেয়েই চোর
  • ট্রাম্পের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের নিষেধাজ্ঞা সরছে
  • নিজ সন্তানকে নদীতে ফেলে হত্যা: ১৩ বছর পর বাবা গ্রেফতার
  • ১০ নির্দেশনা দিল ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন’
  • ফিলিস্তিনি প্রতিবন্ধী তরুণকে কুকুর লেলিয়ে হত্যা করল ইসরায়েলি সেনারা
  • আজ শনিবার, ২৯ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১৩ জুলাই, ২০২৪
    দেশজুড়ে

    ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর তুরাগ হত্যা মামলার তিন আসামি গ্রেপ্তার

    নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৫০ পিএম
    নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৫০ পিএম

    ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর তুরাগ হত্যা মামলার তিন আসামি গ্রেপ্তার

    নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৫০ পিএম

    ফরিদপুর জেলায় ‌ চাঞ্চল্যকর ‌ তুরাগ হত্যা মামলার তিন জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ।

    রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর বারোটায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ‌, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল সহ ফরিদপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তা বৃন্দ এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ারসাংবাদিকবৃন্দ।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ধুলদি গোবিন্দপুর গ্রামের জনৈক জামাল মোল্লা এর মেহগনি ও কলা বাগানের মধ্যে একটি লাশ পরে আছে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ পৌঁছে লাশ দেখে তদন্ত শুরু করে, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এতে তুরাগ এর পিতা মোঃ আলাউদ্দিন হাওলাদার (৬৭) কোতয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর এজাহারনামীয় আসামী মোঃ আব্বাস জমাদ্দার(৩৫) কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। গত ৬ নভেম্বর এজাহারনামীয় আসামী মোঃ টিপু খা (৩৫) কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে আসামী মোঃ টিপু খাঁ স্বেচ্ছায় ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে।

    টিপু খাঁর জবানবন্দির সূত্র ধরে ১৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মো: জুয়েল শেখ (৩৮) কে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। আসামী মোঃ জুয়েল শেখ এর দেওয়া তথ্য মতে ১৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ০১.৩০ মিনিটে এজাহারনামীয় আসামী মোঃ রাজন ওরফে কালা রাজন(২৬) এবং মো. সাজন (২৪) কে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

    আসামি রাজন ও সাজন এর দেওয়া তথ্যমতে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন পশ্চিম ভাষানচর হতে তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামী শাহীন শেখ(৩৭) এর ঘরের ভিতর হইতে ২টি রামদা জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামিদের কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আসামী কানা তুষার এবং তার সহযোগীদের সাথে তুরাগের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। গত জানুয়ারি ২০২৩ কবি জসীম মেলার সময় আসামী তুষার তুরাগকে ৪১,০০০/- টাকা দেয় মাদকদ্রব্য (গাঁজা) কেনার জন্য কিন্তু তুরাগ টাকার কথা অস্বীকার করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুষার তুরাগ কে মারার হুমকি দেয়। তাতে তুরাগ ক্ষিপ্ত হয়ে তুষার কে এলোপাথাড়ি কোপায়। উক্ত বিরোধের জের ধরে ঘটনার কিছুদিন পূর্বে আসামী কানা তুষারের বাড়িতে বসে আসামী কানা তুষার, রাজন, সাজন, টিপু, জুয়েল, শাহিন, সোহাগসহ ০৭ জন মিলে তুরাগ কে মারার পরিকল্পনা করে। হত্যাকান্ড সংঘটিত করার জন্য আসামী কানা তুষার ৬ টি রামদা বানায়।

    পরিকল্পনা মতে গত ১১ অক্টোবর তারিখে দুপুর অনুমান ২:৩০ মিনিটে আসামী কানা তুষার, রাজন, সাজন, টিপু এবং জুয়েল ধুলদি গোবিন্দপুর জামাল মোল্লার কলা বাগানে একত্রিত হয়। তুরাগ কে বাগানে ডেকে আনে রাজন। তুরাগ ঘটনাস্থলে আসার পর রাজন এবং কানা তুষার তাকে ইয়াবা খাওয়ায়। আসামী জুয়েল তুরাগের পিছনে বসে থাকে। আসামী টিপু ও সাজন উভয়ে ১ টি করে রামদা নিয়ে আড়ালে বসে থাকে। ইয়াবা সেবন শেষে আসামী কানা তুষার কোপানোর জন্য জুয়েল এবং রাজনকে ইশারা দেয়। ইশারা দেওয়ার সাথে সাথে আসামি জুয়েল তুরাগকে পিছন থেকে জাপটে ধরে।

    তখন রাজন কলা গাছের ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখা রামদা বের করে তুরাগের হাটু বরাবর কোপ দেয়। আসামী কানা তুষার তার কোমড় থেকে পিস্তল বের করে গুলি করে। আসামী টিপু এবং সাজন দৌড়ে এসে রামদা দিয়ে ডিসিস্ট তুরাগের হাত পা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়িভাবে কোপায় ।

    তুরাগের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল হতে রাস্তায় ওঠার পর কানা তুষার বলে, তুরাগের হাত যে এনে দিতে পারবে তার জন্য পুরস্কার আছে। তখন টিপু পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে রামদা দিয়ে তার এর বাম হাতের কনুইয়ের উপরে ৩- ৪ টি কোপ দিয়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে হাত নিয়ে আসে। তখন টিপু কানা তুষারের কাছে গিয়ে বলে, ভাই আপনার জন্য তুরাগের হাত কাইটা নিয়া আসছি। তখন তাদের সামনে রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়া কালে পেয়ে তুরাগের বন্ধু বেলায়েতকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজন এবং সাজন পিছন থেকে এলোপাতারি ভাবে কোপায়। পরবর্তীতে তারা একটি অটোতে করে আলীপুর খা-পাড়া ব্রীজ হয়ে মধ্য ভাসানচরে যায় এবং সেখানে লুকিয়ে থাকা শাহীনের নিকট তুরাগের কাঁটা হাত ও রামদা বুঝিয়ে দিয়ে তারা গোয়ালন্দের দিকে পালিয়ে যায়।

    এফএস

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…