এইমাত্র
  • ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মাঠে নামলে কোটাবিরোধীরা টিকতে পারবে না’
  • বৈষম্য দূর করার জন্যেই কোটার প্রয়োজন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
  • এ সপ্তাহে রাজধানীতে বাড়তে পারে যানজট: ডিএমপি
  • কুমিল্লায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে আহত করলো দুর্বৃত্তরা
  • ‘মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো যাবে না’
  • বাসা থেকে দেড় কোটি টাকা চুরি, ৪ দিন পর জানা গেল মেয়েই চোর
  • ট্রাম্পের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের নিষেধাজ্ঞা সরছে
  • নিজ সন্তানকে নদীতে ফেলে হত্যা: ১৩ বছর পর বাবা গ্রেফতার
  • ১০ নির্দেশনা দিল ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন’
  • ফিলিস্তিনি প্রতিবন্ধী তরুণকে কুকুর লেলিয়ে হত্যা করল ইসরায়েলি সেনারা
  • আজ শনিবার, ২৯ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১৩ জুলাই, ২০২৪
    অর্থ-বাণিজ্য

    শুভ জন্মদিন

    আম্বালা ফাউন্ডেশন ও একজন আরিফ সিকদার

    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৮ এএম
    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৮ এএম

    আম্বালা ফাউন্ডেশন ও একজন আরিফ সিকদার

    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৮ এএম

    আম্বালা ফাউন্ডেশন। একটা প্রতিষ্ঠান, একটা স্বপ্ন, হাজার মানুষের টিকে থাকার অবলম্বন। ৯০-এর দশক থেকে ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সুনামের সাথে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিকল্প আত্মকর্মস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।

    ১৯৯৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এনভায়রনমেন্ট কাউন্সিল বাংলাদেশ বা সংক্ষেপে ইসি বাংলাদেশ নামে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। যা পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে আম্বালা ফাউন্ডেশন করা হয়। এরপর হাটি হাটি পা পা করে সময় গড়িয়েছে অনেক। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে হিসেব কষলে সেটি ৩০ বছর।

    এই ৩০ বছরে বিন্দু থেকে সাগরে পরিণত হয়েছে আম্বালা ফাউন্ডেশন। শুরুতে ২ রুমের এক ছোট্ট অফিস নিয়ে ছিল যে প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নের মাঠে বীজ বোনার কাজ, সেই প্রতিষ্ঠান এখন তার প্রধান কার্যালয়ের কর্মীদের জন্যই নেওয়া হয়েছে ২টি বহুতল ভবন। এছাড়া দেশজুড়ে হাজার হাজার কর্মী, লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যাদের মুখে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাসি ফুটিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

    সুদক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া এটা কখনো সম্ভব হতো না। কারণ সাফল্য কোন মরীচিকা নয়। সারাজীবন অধরা থেকে যাবে এমন কোন অসাধ্য বস্তুও নয়। তবে ধৈর্য্য ধরে সঠিক পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হয়। আর যদি তা হয় নিজের উন্নতির চেয়ে গণ মানুষের উন্নতি ও সফলতা তবে তা আরো কঠিন হয়ে যায়। এই কঠিন কাজটিই করেছেন আরিফ সিকদার। যিনি একজন উন্নয়নকর্মী, সামাজিক ব্যবসার সফল উদ্যোক্তা, ভবিষ্যৎমুখী ও বাস্তববাদী নৈতিক স্বপ্নসারথী। স্বপ্নপূরণের নেশা যাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

    সবাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গা থেকে পাশ করে সেই ৯০ এর দশকের শুরুতে কর্পোরেট বা সরকারি চাকুরির জৌলুস নেয়ার জন্য ব্যস্ত থাকতেন, তখন তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ নিয়ে কাজ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে নিজেকে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তার সেই স্বেচ্ছা উদ্যোগ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। বর্তমানে আম্বালা ফাউন্ডেশন দেশের ১৯টি জেলায় ২০১টি শাখায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সুসংগঠিত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করে আসছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আনন্দের যেন কমতি নেই। আনন্দের এই দিনে বাড়তি রং চড়িয়েছে আম্বালা ফাউন্ডেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ সিকদারের জন্মদিন।

    ১৯৭২ সালের এই দিনে পৃথিবীর আলো দেখেন আরিফ সিকদার। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের আব্দুল মান্নান সিকদার ও রুবিয়া আখতারের কোলজুড়ে আসা সেই ছোট্ট শিশুটিই আজকে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

    আম্বালা ফাউন্ডেশন ও ব্যক্তি আরিফ সিকদার ২ জনই আজ প্রতিষ্ঠানের মহিমায় উজ্জ্বল। একটা মানুষের ৩০ বছরের ত্যাগ, শ্রম, মেধা, ধৈর্য্য আর তার সঙ্গে মিশে থাকা একদল সুদক্ষ, আন্তরিক কর্মী বাহিনীর সমন্বয়ে আজকের যে আম্বালা ফাউন্ডেশন তা নিয়ে এর সকল কর্মী গর্ব করতেই পারেন। ঐ মানুষটি তার কর্মজীবনের পুরোটা দিয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে। পাশাপাশি কমিউনিটি প্রচার মাধ্যম রেডিও বিক্রমপুর এফএম ৯৯.২ প্রতিষ্ঠা করে প্রান্তিক, পশ্চাৎপদ এক জনগোষ্ঠীর কাছে নিয়ে গেছেন উন্নয়নের বার্তা, শিক্ষার শক্তি। মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছেন তিনি এই প্রচার মাধ্যমে।

    গুণী এই ব্যক্তির নতুন কিছু করার নেশা আজও চলমান। 'আম্বালা আই‌টি', 'আম্বালা অটোস' থেকে শুরু করে দিন দিন নতুন নতুন কার্যক্রমে বিকশিত হচ্ছে আম্বালা ফাউন্ডেশন। এছাড়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড এর পরিচালকসহ তিনি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

    শুধু ব্যবসার হিসাব-নিকাশের গণ্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি আরিফ সিকদার। দানশীল মানুষটি মানুষের সেবায় সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু অর্থ দিয়েই ক্ষান্ত নন, নিজের মূল্যবান সময় এবং সৃজনশীলতা বিনিয়োগ করছেন সমাজের টেকসই পরিবর্তনে। তার মধ্যে অন্যতম একটি 'স্বপ্নযাত্রা'। তার শুরু করা এই ‘স্বপ্নযাত্রা’ এমনই একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ যা শত শত জীর্ণ পরিবারকে দিচ্ছে আলোর দিশা। স্বপ্নযাত্রা দরিদ্র পরিবারের একজন ছেলে/মেয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ লেখাপড়ার দায়িত্ব নিচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হয়ে এর ব্যপ্তি প্রতিবছর বাড়ছে।

    কোন রকম সামাজিক সম্মান প্রাপ্তি, অর্থনৈতিক লাভ, প্রচার প্রচারণা কিছুই বিনিময়ে প্রত্যাশা নেই এই 'স্বপ্নযাত্রা' প্রকল্পের। একজন শিক্ষিত মানুষ পারে তার পরিবারের অবস্থা পরিবর্তন করতে। এটি একটি স্বপ্ন-উদ্যোগ যা পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানদের সুষ্ঠু ও প্রকৃত শিক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ঐ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন করতে সচেষ্ট।

    ফলে শত শত তরুণ আরিক সিকদারকে এখন মেন্টর মানেন। তিনি একজন সত্যিকারের ‘চেঞ্জমেকার’। মিডিয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন সারাজীবন, কিন্তু প্রচারবিমুখ মানুষটি নিরবেই কাজ করে যাচ্ছেন।

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…