এইমাত্র
  • নিজেদের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস হায়দ্রাবাদের
  • জানা গেল কোরবানি ঈদের সম্ভাব্য তারিখ
  • চলতি আইপিএলে দ্রুততম শতক হাঁকালেন হেড
  • ‘রাজকুমার’র সফলতায় ভক্তদের শুভেচ্ছা শাকিবের
  • রাত ১টার মধ্যে যে সব এলাকায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়
  • এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু আগামীকাল
  • ওমরাহ ভিসার মেয়াদে যে পরিবর্তন আনল সৌদি আরব
  • ইরান-ইসরায়েল মধ্যকার উত্তেজনায় সৌদির অবস্থান কী?
  • নরসিংদীতে প্রকাশ্যে ইউপি সদস্যকে গুলি ও জবাই করে হত্যা
  • বড় মেয়েকে নিয়ে গোপনে বাংলাদেশ ছাড়লেন সেই জাপানি মা
  • আজ সোমবার, ২ বৈশাখ, ১৪৩১ | ১৫ এপ্রিল, ২০২৪
    দেশজুড়ে

    রাস্তার ধারে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে অযত্নে ফোটা ভাঁট ফুল

    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম
    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম

    রাস্তার ধারে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে অযত্নে ফোটা ভাঁট ফুল

    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সড়কের দু’পাশে, গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ও আনাচে-কানাচে অযত্নে অবহেলা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা ফোটা শুভ্র সাদা ভাঁটফুলের অপরুপ দৃশ্য চোখ জুড়াচ্ছে প্রকৃতি প্রেমিদের। উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন সড়কের দু'পাশে অযত্নে, অনাদরে ও অবহেলায় বেড়ে ওঠা গ্রামবাংলার অতি পরিচিত বহুবর্ষজীবী বুনো উদ্ভিদ হচ্ছে ভাঁট গাছ।গ্রাম বাংলার চিরচেনা এ ফুলটি হরহামেশা দেখা গেলেও সাদা ফুলের দিকে তাকালে অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। মনের মধ্যে একটা ভাল লাগার অনুভূতি জাগে।

    অঞ্চলভেদে এই গাছের ফুল ভাইটা ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, বনজুঁই ফুল, ঘণ্টাকর্ণ হলেও ফুলবাড়ীতে ভাঁট ফুল নামেই পরিচিত। চৈত্র মাসে এই ফুল ফোঁটে বলে একে চৈত্রের ফুলও বলা হয়।

    উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন যাওয়ার পথে দুই পাশে ভাঁট ফুলের সমারোহ দেখলে মনে হবে প্রকৃতি যেন অপরূপ সাজে সেজেছে। এছাড়া গ্রাম বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চার পাশের বাঁশ ও সুপারী বাগানগুলোতে ভাঁট ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।

    চলাচলকারী ফুল প্রেমিরা দেখে মুগ্ধ হন। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোঁটে। এই ফুল ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে দেখা যায়। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মাঠ, বন, রাস্তা কিংবা জলাশয়ের পাশে ভাঁট ফুলের ঝোঁপ চোখে পড়ে। এর বৈজ্ঞানিক নাম, ক্লেরোডেনড্রাম ভিসকোসাম।

    ইংরেজি নাম হিল গেন্টারি বোয়ার ফ্লাওয়ার। জানা গেছে এই ভাঁটফুলের আদি নিবাস ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অঞ্চলে। তবে যতদিন যাচ্ছে ততই হারিয়ে যাচ্ছে ভাঁটফুল। আগে সব খানেই এ প্রজাতির ফুলের বিস্তার ছিল। এখন বেশ দুর্লভ। গ্রামে কমেছে, শহরে তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু ফুলপ্রেমীরা খুঁজলে নিরাশ হবেন না।

    ফুলপ্রেমি ও নাওডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার জানান, আগে যেখানে সেখানে ভাঁটগাছের দেখা মিলতো। আগের মানুষ এটি ঔষধি গাছ হিসাবে চিনতো। গাছের ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে। প্রতিদিন ভাঁটগাছের পাতার রস খেতো। ভাঁট গাছের পাতার রস খুবই উপকারী। বিশেষ করে গ্র্যাস্ট্রিক ও ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য উপকার বেশি। এখনো পুরাতন মানুষজন বাড়ীর কাছে না থাকলে দুর-দুরান্তর থেকে ভাঁটগাছের পাতা সংগ্রহ সকালে খালি পেটে ঔষধ হিসাবে সেবন করে। তিনি আরও জানান ভাঁট গাছগুলো সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। পাতা ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা হয়।

    ভাঁটগাছের পাতাগুলো খসখসে হলেও দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো । ডালের শীর্ষে পুষ্পদন্ডে ফুল ফোঁটে। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশ্রণও আছে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি ভাঁটগাছের ফুল ফোঁটে। এই ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। রাতে বেশ সুঘ্রাণ ছড়ায় এই ফুল। প্রকৃতি প্রেমিরা যেভাবে ফুলের সুভাষ নেন। তেমনি ভাবে এ ফুল ফোঁটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুলের মধু সংগ্রহ করে। ফুল গাছটি ভাঁট বলে পরিচিত হলেও স্থানভেদে এবং ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে এর ভিন্ন ভিন্ন নামও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এমআর

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…