এইমাত্র
  • পানিতে তলিয়ে গেছে ভোলার নিচু এলাকা
  • এখন একটাই কাজ, তারেক জিয়ার সাজা বাস্তবায়ন: প্রধানমন্ত্রী
  • চোখ’ ফুটেছে ঘূর্ণিঝড় রেমালের, ব্যাপক তাণ্ডবের আশঙ্কা
  • বেঁচে যাওয়া বাছুরটিই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ষাঁড়
  • সাভারে ডেইলি স্টারের সাংবাদিকের ‍উপর হামলা
  • স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস ডব্লিউএইচওর
  • প্লাবনের তোড়ে বাঁধ ভেঙে রাঙ্গাবালীর ২০ গ্রাম প্লাবিত
  • এবার বেনজীরের কোম্পানি-ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ
  • পেনশন প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
  • বিয়ে করলেন শরিফুল রাজ ও বুবলী
  • আজ রবিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২৬ মে, ২০২৪
    রাজধানী

    জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ

    গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম
    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম

    গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম

    নিজের পিএইচডি নিয়ে জালিয়াতি এবং নানারকম দুর্নীতির দায়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবিতে রাজধানীতে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

    রবিবার (১২ মে) সকাল ১১টায় ঢাকার ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতা‌লের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    জানা যায়, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রে‌জিস্ট্রার তাসা‌দ্দেক আহ‌মেদ নি‌জে‌কে ডক্ট‌রেট ব‌লে প‌রিচয় দি‌তেন। প‌রে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিক্তিতে জানা যায়, তার কোনো পিএইচ‌ডি ডি‌গ্রি নেই, তি‌নি ভুল পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ওই রে‌জিস্ট্রা‌রকে যাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করা হয়, সেজন্য বেশকিছুদিন ধরে শিক্ষার্থী‌দের ম‌ধ্যে আন্দোলন চলে আসছিল।

    এরইমধ্যে রবিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নগর হাসপাতা‌লে পূর্ব নির্ধারিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সভা ছিল। সেখা‌নে বর্তমান রেজিস্ট্রারের মেয়াদ বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী (সদস্য), অধ্যাপক আলতাফুন্নেছা (সদস্য), শিরীন পারভিন হক, অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অন্যান্য সদস্যসগণ।

    এদিকে, ট্রাস্টি বোর্ডের সভার খবর পেয়ে সকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতা‌লের প্রবেশমুখে অবস্থান নেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এসময় প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    তখন শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হোসাইন নাফি বলেন, রেজিস্ট্রার তাসাদ্দেক চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে ডক্টরেট পরিচয় দেন এবং নানান চিঠিতেও নামের আগে ড. পদবি ব্যবহার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তা‌র ডক্টরেট ডিগ্রি নাই। পত্রিকায় এই খবর ছাপা হয়। এরপর থেকে তা‌কে নিজের নামের আগে ডক্টরের পদবি ছাড়াই সাক্ষর দিতে দেখা যায়। এইরকম জালিয়াতি করার পর রেজিস্ট্রার কীভাবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অবস্থান করছেন তা নিয়ে ছাত্ররা প্রশ্ন তোলে। জানতে পেরেছি, তাকে পূণরায় পূর্ণবহাল করার জন্য কোন একটি মহল নানা রকমভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এই জালিয়াতির জন্য স্পষ্ট ভাষায় তার অপসারণ চাই এবং তার অন্যান্য দুর্নীতির তদন্ত করে যথাযথ শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে।

    সাবেক শিক্ষার্থী শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গরীবের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর গণ বিশ্ব‌বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাধারণ ও গরিবের সন্তানদের কম টাকায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান রেজিস্ট্রার, উপাচার্যসহ একটি মহল নানান রকম অনিয়ম আর দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়। যারা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাদেরকে ভয় দেখায়। নানা ষড়যন্ত্রের ভেতর দিয়ে সৎ ও আদর্শবান শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করে রেজিস্ট্রার ও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গায় পরিণত করেছেন। দফায় দফায় নানা রকম ফি বৃদ্ধি করে। ইদানিং সমাবর্তনের ফি নামে টাকা পয়সা লুটপাটের একটা আখড়া খুলে বসেছেন। এসবের বিরুদ্ধে আমরা শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাই এবং পিএইচডি সনদপত্র জালিয়াতকারী রেজিস্ট্রারের অপসারণ চাই।

    রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শুকরিয়া বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসি। আর গণ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মত শিক্ষার্থীদের জন্য সেকেন্ড অপশন। অল্প টাকায় মোটামুটি একটা ভালো সিলেবাসে পড়া, ভালো মানের একটা ডিগ্রি নিয়ার সুযোগ। কিন্তু শিক্ষা শুধু বইয়ের পড়া আর সার্টিফিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। এখানে কি আমরা প্রতারণা, জালিয়াতি, দুর্নীতি শিখতে আসছিলাম? কী শিখাচ্ছে আমাদের? এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থী, দেশ ও সমাজের জন্য কিরূপ প্রভাব ফেলছে? অনেকদিন যাবত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা বা আন্দোলন হচ্ছে কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো কর্ণপাতই করছে না। উল্টো নানানভাবে শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রেখে অনৈতিক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখছে। আমরা সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা চাই, সুন্দর পরিবেশ চাই।

    তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির কালো হাত আমাদের অগ্রাধিকার কেড়ে নিচ্ছে ও আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথের বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিক্ষার্থী বান্ধব ও দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন চাই। এবং প্রশাসন চাইলেই তা সম্ভব। আমরা চাইনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অর্জন করা সুনাম কিছু অযোগ্য লোকের কারণে নষ্ট হোক। ডা. জাফরুল্লাহর আদর্শ আমরা ধারণ করি ও ধরে রাখার চেষ্টা করে যাব।

    রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি বরাবর সেইভাবেই দেখতে চেয়েছি যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় স্যার ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেখেছেন। আমি চাইনা স্যারের স্বপ্নে কেও অন্যায়ভাবে হিংস্র থাবা মেরে ছিড়ে খায়। স্যার যেভাবে শিখিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই আমরা সেভাবেই কাজ করে যাবো।

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…