এইমাত্র
  • জোয়ারে ভেসে যাওয়ার পর যুবকের লাশ উদ্ধার
  • পানিতে তলিয়ে গেছে ভোলার নিচু এলাকা
  • এখন একটাই কাজ, তারেক জিয়ার সাজা বাস্তবায়ন: প্রধানমন্ত্রী
  • চোখ’ ফুটেছে ঘূর্ণিঝড় রেমালের, ব্যাপক তাণ্ডবের আশঙ্কা
  • বেঁচে যাওয়া বাছুরটিই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ষাঁড়
  • সাভারে ডেইলি স্টারের সাংবাদিকের ‍উপর হামলা
  • স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস ডব্লিউএইচওর
  • প্লাবনের তোড়ে বাঁধ ভেঙে রাঙ্গাবালীর ২০ গ্রাম প্লাবিত
  • এবার বেনজীরের কোম্পানি-ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ
  • পেনশন প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
  • আজ রবিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২৬ মে, ২০২৪
    দেশজুড়ে

    আধুনিক কৃষিতে ভূমিকা রাখছে লক্ষ্মীপুরের সোহাগ

    রাজীব হোসেন রাজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১১:৪১ এএম
    রাজীব হোসেন রাজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১১:৪১ এএম

    আধুনিক কৃষিতে ভূমিকা রাখছে লক্ষ্মীপুরের সোহাগ

    রাজীব হোসেন রাজু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১১:৪১ এএম

    আধুনিক হচ্ছে দেশের কৃষি। উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন ধানের জাত। উচ্চ ফলনশীল এসব জাতে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। নতুন বেশ কয়েকটি ধান চাষ করে ইতিমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন লক্ষ্মীপুরের তরুন কৃষক আবদুর রহমান সোহাগ। পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৯ জাতের ধান চাষ করে সে। এরমধ্যে প্রায় ৫ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

    সোহাগ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের নলডগী গ্রামের ইব্রাহীম ব্যাপারি বাড়ির ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে ৭ বছর যাবত কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। ধান ছাড়াও সোহাগ সয়াবিন, সূর্যমুখী, সরিষা, তীল, কাপশিকাম, চূড়াইফলসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন।

    জানা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্ভাবিত নতুন নতুন জাতের ধান পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেন আবদুর রহমান সোহাগ। ফেনীর সোনাগাজী ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট এর আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সে বীজ সংগ্রহ করে। এ বছর বোরো মৌসুমে নতুন জাত বঙ্গবন্ধু ধান-১০০, ব্রি ধান-১০২, ব্রি ধান-১০১, ব্রি ধান-১০৮, ব্রি ধান-১০৭, ব্রি ধান-১০৫, ব্রি ধান-১০৪ চাষ করে সে। এরমধ্যে ব্রি ধান-১০৫ কে ডায়াবেটিজ ধানও বলা হয়। এর চাল খেলে ডায়াবেটি নিয়ন্ত্রনে থাকে। বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ জিংক সমৃদ্ধ। এছাড়া আউস মৌসুমে ব্রি ধান-৯৮, আমন মৌসুমে ব্রি ধান-১০৩, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯৪, ব্রি ধান-৯৫ চাষ করেছে সোহাগ।

    আবদুর রহমান সোহাগ জানান, বোরো, আমন ও আউস মৌসুমী পরীক্ষামূলকভাবে ধানের নতুন নতুন জাতগুলো সে চাষ করেন। নতুন জাতগুলো চাষ করে সে ব্যাপক ফলন পাচ্ছেন। ১ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে একটি নতুন জাতের চাষ হয়। এখান থেকে যে জাতের ফলন ভালো হয় সেটা বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। এবার আমন মৌসুমী তার কাছ থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হয়ে দেশের ৭০ উপজেলায় ব্রি ধান-১০৩ জাতের বীজ কৃষকদের নিকট যাবে। এছাড়া আউস মৌসুমী ব্রি ধান-৯৮ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বর্তমানে সারাদেশে এ ধান ছড়িয়ে পড়েছে। পরীক্ষামূলক এসব নতুন জাতের ধান চাষে তদারকি করেন জেলা ও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

    এছাড়া প্রতি মৌসুমে গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বৈজ্ঞানিকরা এসে মাঠ পরিদর্শন করে যান এবং এলাকার কৃষকদের মাঝে নতুন ধানের বীজ ছড়িয়ে দেন। তার দেখাদেখি অনেকেই নতুন নতুন এসব ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

    স্থানীয় যুবক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, সোহাগকে দেখে কৃষিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। প্রায় আড়াই বছর যাবত কৃষিতে সম্পৃক্ত রয়েছি। সোহাগের কাছ থেকে নতুন নতুন জাতগুলো নিয়ে আমরা চাষ করছি এবং ভালো ফলন পাচ্ছি। আমার মতো আমাদের এলাকার প্রায় ৬০-৭০ জন কৃষক নতুন এসব জাত চাষ করে। আমরা মনে করি সোহাগের হাত ধরে আধুনিক কৃষি ছড়িয়ে পড়বে সারাদেশে।

    সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে নতুন যে জাতগুলো উদ্ভাবিত হয় সেগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সোহাগ পরীক্ষামূলক চাষ করে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তা তদারকি করি। এছাড়া মাঝে মাঝে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটও কিছু বীজ তাকে সরাসরি দেয়। সে সঠিকভাবে চাষ করছে কিনা এবং যে কোন বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। ইতিমধ্যে নতুন জাতের ধান গুলো চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সোহেল মোঃ সামছুদ্দিন ফিরোজ বলেন, সোহাগ আমাদের কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে। তার মাধ্যমে নতুন নতুন ধানের জাতগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাকে পরামর্শসহ নিয়মিত তদারকি করছি। তিনি আরো বলেন, সোহাগের মাধ্যমে আমরা নতুন জাতগুলো ছড়িয়ে দিতে চাই। যে জাতগুলো ভালো সে ইচ্ছে করলে ঐ বীজ বিক্রি করতে পারছে। এছাড়া আমরা মাঠ দিবস, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে এ নতুন বীজগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছি।

    বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আদিল বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ধান নিয়ে গবেষণা করে। কিভাবে ফলন বৃদ্ধি করা যায় আমরা তা নিয়ে কাজ করি। বর্তমানে আমরা ১৫টি ধানের জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছি। কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ জাত গুলো আমরা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছি। সোহাগদের মতো নতুন নতুন উদ্যোক্তারা আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর এরজন্য অগ্রনী ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।

    আরইউ

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…