এইমাত্র
  • যে ২ ধরনের মানুষকে শরিকে নিলে কারো কোরবানিই হবে না
  • ‘রাফসান দ্য ছোট ভাই’-এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  • হঠাৎ বৃষ্টিতে ভোগান্তি চরমে, ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দিগুণ
  • খাগড়াছড়িতে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার
  • রংপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‍্যাবের সাব কন্ট্রোল রুম উদ্বোধন
  • বাংলাসহ ৫০ ভাষায় অনুবাদ হবে হজের খুতবা
  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেই যানজট, নির্বিঘ্নে আসছে কোরবানির পশু
  • কুয়াকাটা ৬৫ দিনের অবরোধে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন
  • ১৫২ কোটি টাকার মামলা: কমিশনার ওয়াহিদাকে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
  • শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ নাকি খোলা, সিদ্ধান্ত ঈদের পর
  • আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৩ জুন, ২০২৪
    দেশজুড়ে

    স্বাদে অতুলনীয় কাপাসিয়ার মিষ্টি আনারস

    ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
    ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১১:৫৬ এএম

    স্বাদে অতুলনীয় কাপাসিয়ার মিষ্টি আনারস

    ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১১:৫৬ এএম

    রাস্তার পাশে আনারসের পশরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সাথে আনারসের ভর্তা তৈরির উপকরণ। কেউ বাড়ির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ এখানেই কেটে খাচ্ছেন। রাস্তার পাশে মাচা তৈরি করে শত শত আনারস সাজানো। এমন দৃশ্য টোক-কাপাসিয়া সড়কের পাশে। এছাড়াও এলাকার ভিতরের গ্রাম গুলোতেও এমনি দৃশ্য।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এবছর গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। অনেকটা অযত্নে বেড়ে ওঠা আনারস কৃষকদের লাভবান করছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব আনারস ঢাকায় রফতানি হচ্ছে। সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

    কোন ধরনের কীটনাশক ছাড়াই এই আনারসের ফলন হয়। এখানকার লাল মাটি খুবই উর্বর ও বৈচিত্র্যময়। এবছর আনারস ও কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। কোথাও লালমাটি, তো কোনো এলাকার মাটি বেলে, আবার অন্য এলাকার মাটি দোআঁশ। তবে লালমাটির এলাকাই বেশি।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,দুই দশক আগেও এসব জমিতে ধান চাষ হতো। বাকি সময় ওই জমি পতিত পড়ে থাকত। কয়েক বছর ধরে লালমাটির টেকটিলায় দেশি জাতের পাশাপাশি জলডুগি ও ক্যালেন্ডার আনারসের চাষ শুরু হয়। ফলন ভালো হওয়ায় পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবধানে আনারস চাষের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়েছে।

    বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক এক থেকে ১০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে আনারসের চাষ করেছেন। তাঁদের উৎপাদিত আনারস পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব আনারস ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কাপাসিয়ার বারিষাব ইউনিয়নের লোহাদী গ্ৰামে সড়কের পাশে বেশ কিছু আনারস বিক্রির দোকান রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে আনারস কিনে নিয়ে যান। ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দামে প্রতিটি আনারস কেনাবেচা হয়।

    আনারসের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। আনারসে থাকা ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম ও ফসফরাস মানব দেহের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তা ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, হাড় গঠনে সহায়তা করে, দাঁত ও মাঢ়ির সুরক্ষা দেয়, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকরী, হজম শক্তি বাড়ায়, রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

    উপজেলার উজলী গ্রামের আনারস চাষি আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি এক বিঘা জমিতে আনারসের চাষ করেছি। ক্যালেন্ডার ও জলডুগি—দুই জাতের আনারসের চাষ করা হয়েছে। এ বছর আনারসের দাম অনেক ভালো। আমার এই এক বিঘা জমিতে যে পরিমাণ আনারস ধরেছে, তা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি যাবে। এ বছর আরও কিছু জমিতে নতুন করে আনারসের চারা রোপণ করব।’

    বরিষাব এলাকার মমিনুল হক বলেন, ‘চার বছর আগে তিন টাকা করে আনারসের চারা কিনি। প্রতিটি চারা লাগাতে খরচ হয় দুই টাকা করে। লাগানোর এক বছর পরই আনারস ধরতে শুরু করে। আমি তিন বছর ধরে ছয় বিঘা জমির আনারস বিক্রি করছি। এ বছর আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। তিন বিঘা জমির আনারস প্রায় ৪ লাখ টাকা বিক্রি হবে।’

    কাপাসিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদিত আনারসের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন। পুরো কাপাসিয়ায় ৩ হাজার ২৫০ জন কৃষক নিয়মিত আনারসের চাষ করছেন। বিগত পাঁচ-ছয় বছরের আনারস চাষির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

    কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার বসাক বলেন, এই এলাকায় আগে শুধু দেশীয় জাতের আনারস পাওয়া যেত। এখন ক্যালেন্ডার ও জলডুগি আনারসের চাহিদা বেড়েছে। যে কারণে এলাকার চাষিদের মধ্যে জলডুগি ও ক্যালেন্ডার আনারস চাষের পরিমাণও বেশি।

    এআই

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…