চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপজেলার কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ মার্চ) সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২৮ মার্চ) নিহত নাসির উদ্দীনের স্ত্রী মোমেনা আক্তার বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতসহ মোট ১২ জনের নামে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ৪ আসামীকে আটক করে শনিবার সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোঃ বশির (৩৫)। সে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাতিলোটা গ্রামের মোহাম্মদ আলী প্রকাশ ভুলোর ছেলে ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩২)। সে মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিন রহমতনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ও জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য। মোঃ আরমান শাকিল (৩৫)। সেমুরাদপুর ইউনিয়নের পেশকারপাড়া গ্রামের মোঃ কামালের (চৌকিদার) ছেলে ও মুরাদপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। ফকিরহাট জহুর আহম্মেদের ছেলে ও মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রকাশ মুরগি রাসেল (৩৮)। এজাহারে অন্য আসামীরা হলেন- উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাতিলোটা মাহমুদাবাদ গ্রামের নুরুল আলম নুরুর ছেলে মোঃ এমরান (৪৫) ও মোঃ সুজন (২৮), বাড়বকুণ্ড এসকে এম চৌধুরী পাড়া এলাকার মৃত নুর হোসেনের ছেলে মোঃ শাহিন (২৬) ও মুরাদপুর হাসনাবাদ গ্রামের মোহাম্মদ লাতুর ছেলে সাহাব উদ্দিন (৩৬)। মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাতিলোটার বাসিন্দা নাসির উদ্দীন। ব্যবসা করতেন গরুর খামারের।
গত ২৬ মার্চ সন্ধায় ইফতারের পর মোটরসাইকেল যোগে প্রতিবন্ধী ছেলে নাফিজ উদ্দিনকে নিয়ে শপিং করার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এসময় হাতিলোটা বোচার নতুন বাড়ির সামনে পূর্ব পাশে কালভাটের উত্তর পাশে রাস্তা অতিক্রম করার সময় সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল থামিয়ে ছেলে নাফিজকে (প্রতিবন্ধী) মোটরসাইকেল হতে নামিয়ে একটি চকলেট দিয়ে বাড়ির দিকে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু ছেলর বাড়ির না গিয়ে ঘটনাস্থলে দাড়িয় ছিল। তখনই ধারালো রামদা দিয় কুপিয়ে নাসিরের ডান পাশের গালে ও ঘাড়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। রামদার কুপে থুতনী হতে ঘাড়ের পেছনে বাম কান পর্যন্ত এক-তৃতীয়াংশ কেটে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এদিকে মামলার এজাহারে ৮ জনই বিএপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। এরআগে বুধবার (২৬ মার্চ) সন্ধায় ইফতারের পরে বাড়ি থেকে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে শপিং করতে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্রের কোপে নাসির উদ্দিনের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তাকে হত্যা করা হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, নাসির উদ্দীনকে আত্মার ঘটনায় তার স্ত্রী ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এরমধ্যে শুক্রবার চারজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এইচএ।