পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল হালিম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) জয়তুন বেগম নামে ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হালিম সদর ইউনিয়নের উপেনচৌকি ভাজনী আশ্রয়ণের আইজুল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারী বলেন, উপেনচৌকি ভাজনী আশ্রয়ণে দীর্ঘদিন থেকে তিনি বসবাস করেন। তার স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাড়ির পাশেই মুদির দোকান রয়েছে ওই নারীর। আব্দুল হালিম নিয়মিত ওই দোকানে যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করেন। যাতায়াতের কারণে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন হালিম। গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৯টায় জয়তুন নিজ বাড়ির রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে হালিম বাড়িতে প্রবেশ করে ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন। তবে ওই এতে সম্মতি না দেওয়ায় হালিম জয়তুনের মুখ চেপে পরনের কাপড় খুলে ধর্ষণ চেষ্টা করে। এই সময় জয়তুন চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে আসলে হালিম সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এইদিকে মামলা দায়েরে পর একটি পক্ষ হালিমকে জামায়াতের সদস্য দাবি করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এই দাবির প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, আব্দুল হালিম আমাদের সংগঠনের কোন পর্যায়েরই সদস্য নন। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি জামায়াতকে ভালোবাসতে পারেন। অনেকেই জামায়াতকে ভালোবাসেন। তাই বলে কারো কৃতকর্মের দায় জামায়াতের কর্মী বলে চাপিয়ে দেওয়াটা অন্যায়।
অভিযুক্ত আব্দুল হালিম জানান, প্রায় একবছর আগে জয়তুনকে সে ১৫ হাজার টাকা ধার দেন হালিম। সেই টাকা চাইতে গেলে ঘটনার দিন জয়তুন রাস্তা থেকে তার শার্টের কলার চেপে ধরে বাসায় টেনে নিয়ে গিয়ে অহেতুক চিৎকার শুরু করেন। এই সময় হালিমের সাথে থাকা স্মার্টফোনটি জ্বলন্ত চুলায় দেয় জয়তুন। সেদিন শ্লীলতাহানির কোন ঘটনাই ঘটেনি। ধারের টাকা না দেওয়ার জন্য জয়তুন মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন বলে দাবি হালিমের।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
এনআই