প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ী উদ্দেশ্যে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে রোববার সকালে যাত্রা করেন নাজমুল। কিন্তু স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তার আর বাড়ী যাওয়া হলো না। পথে তাকওয়া পরিবহণের একটি বেপরোয়া গতির বাস কেড়ে নেয় তার ও তার স্ত্রীর প্রাণ। ঈদে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ী গেলেন নিথর দেহে। আর তার দুই অবুঝ সন্তান দাদার বাড়ীর পরিবর্তে এখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, আজ রোববার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন দেওলিয়বাড়ী এলাকায়। তাকওয়া পরিবহনের বেপরোয়া একটি যাত্রীবাহি বাস এ পরিবারের চার সদস্যসহ ৮ জন যাত্রীবাহি একটি অটোরিক্সাকে চাপা দিলে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো পাঁচ জন।
এ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা দুই রকম তথ্য দিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানার ঘোড়িয়া গ্রামের আনসার আলীর ছেলে নাজমুল হোসেন ও তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন (২৮)। অপরজন, অটোরিক্সার চালক হালিম ওরফে জুয়েল সরকার (২৫)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার চন্ডিপুরের হিরো সরকারের ছেলে। তাদের মধ্যে অটো চালকের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে আছে, অপর দুইজনের মরদেহ স্বজনরা নিয়ে গেছে।
স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, নিহত নাজমুলের চাচাতো ভাই শরিফুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার পর তাদেরকে টাঙ্গাইল মেডিকেলে আনার সময় পথে তারা মারা যায়। এ ঘটনায় আহত তাদের দুই সন্তানকে টাঙ্গাইল মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে, অটো চালক নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তিনি ৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানেন না বলেও জানান।
অপরদিকে, দুর্ঘটনার কিছু সময় পর কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিহত নাজমুলের চাচাতো ভাই শরিফুল ইসলাম বলেন, নিহত নাজমুল ও তার স্ত্রী কোনাবাড়ী এলাকায় স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করতেন। রোববার সকালে নামজমুল তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্য টাঙ্গাইল আসার জন্য অটোরিকশায় করে কোনাবাড়ী দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দুর্ঘটনায় তারা মারা গেছেন।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, নিহত দম্পতির ছয় বছরের মেয়ে ও এক বছরের ছেলে। অপর তিনজন হলেন, কোনাবাড়ী এলাকার এনামুল (৩০), মানিকগঞ্জ জেলার ধামরাইয়ের অজিত চরণ (৪৫) ও তার পিতা গঙ্গা চরণ (৮০)।
স্থানীয়রা জানায়, তাকওয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস বেপরোয়া গতিতে গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে কালিয়াকৈরের চন্দ্রার দিকে আসছিল। পথে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে বাসটি যাত্রীবাহি অটোরিক্সাকে সামনে থেকে চাপা দেয়। এতে অটোরিক্সাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। অটোরিক্সাটিতে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৪ জন যাত্রীসহ মোট ৮ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩ জন নিহত ও অপর ৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল ইসলাম, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেপরোয়া গতির একটি তাকওয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস একটি ব্যাটারীচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিক্সাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় অটোরিক্সার তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অপর দুজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।
পিএম