ছোটবেলায় ঈদ সালামির জন্য আপনিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন নিশ্চয়ই। সালামি মানেই যেন চকচকে নোট আর ইচ্ছেমতো খরচ করার স্বাধীনতা। সেসব দিন পেরিয়ে এখন হয়তো সালামি দেওয়ার পালা আপনার। এরও একটা আলাদা আনন্দ আছে। তবে সালামি পাওয়ার নিখাদ আনন্দটাকে হয়তো এর চেয়ে বেশ এগিয়েই রাখবেন আপনি। কেউ সালামি হিসেবে নগদ অর্থ সরাসরি তুলে দেন হাতে, কেউ আবার সালামি দেন সুন্দর খামে পুরে।
এ যুগে আরও আছে ডিজিটাল সালামি। ছোটদের সালামি বা ঈদি দেওয়ার প্রচলন আছে অন্যান্য দেশেও। দেশে দেশে মুসলিম পরিবারগুলোতে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর এই ঐতিহ্যের প্রচলন বহু বছর ধরেই।
বছরের পর বছর ধরে ঈদ বকশিস বা সালামি হিসেবে নতুন টাকা দেওয়ার রীতি চলে আসছে। এটি যেন অলিখিত ঐতিহ্য বা রেওয়াজ। তবে এবার এই রীতি আর পালন করা হচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞার কারণে এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টাকার নতুন নোট বাজারে আসেনি। তবে কি এবার ময়লা পুরনো টাকাতেই কাটাতে হবে ঈদ?
ঈদে নতুন টাকা নেই বলে মন খারাপ করে থাকার কারণ নেই। তারচেয়ে বরং নতুন নোট ছাড়াও কীভাবে ঈদ সালামি দেওয়া যায় সেই উপায় জানুন-
অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহৃত নোট
নতুন নোট যেহেতু এবার নেই তাই মানিব্যাগ বা পার্সে থাকা অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহৃত নোটগুলোকেই বেছে নিতে পারেন সালামির জন্য। কিছুটা কম ময়লা, ছেঁড়াফাটাহীন নোটগুলো আলাদা করুন সালামির জন্য।
সালামি দিন ডিজিটাল মাধ্যমে
এখন যুগ বদলেছে। ছোট-বড় সবাই ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত। তাই এবার সালামি দেওয়ার ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম বা ডিজিটাল মাধ্যম। বিকাশ, নগদ, উপায়ের মতো অ্যাপের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে সালামি পাঠিয়ে দিন। তার যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে সেটিও হতে পারে সালামি আদান-প্রদানের মাধ্যম।
অর্থের বদলে উপহার
নগদ অর্থের মাধ্যমেই যে ঈদ সালামি দিতে হবে এমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। এবার নাহয় অর্থের বদলে উপহার দিন। ছোটদের প্রিয় কোনো খেলনা বা খাবার, বড়দের প্রয়োজনীয় কিছু বা শোপিস, মোমবাতি, বাহারি আয়না, প্রসাধনী, গয়না দিতে পারেন ঈদ উপহার।
উপহার হতে পারে বই
পরিবারের ছোট শিশু থাকলে তাদের ঈদ সালামি হিসেবে নতুন টাকার বদলে নতুন বই দিতে পারেন। কমিক্স বুক, রঙের খাতা, রঙপেন্সিল এসবও উপহার দিতে পারেন। নতুন টাকা না পেলেও নতুন বই পেলে তাদের আনন্দ বাড়বে বৈ কমবে না।