পবিত্র রমজান মাস দরজায় কড়া নাড়ছে। সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এই মাসে দানের গুরুত্ব অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি। ইসলামে রমজানকে বলা হয়েছে সহমর্মিতা ও মানবসেবার মাস—যেখানে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব।
হাদিসে এসেছে, রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) দান-খয়রাতে ছিলেন সবচেয়ে উদার। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল। আর রমজানে তিনি আরও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন।” —(সহিহ বুখারি)
রমজানে একটি ক্ষুধার্ত মানুষকে ইফতার করানো, অসুস্থের চিকিৎসায় সহায়তা করা কিংবা অভাবগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো—এসব আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।” —(তিরমিজি)।
পবিত্র কুরআনে মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।”
—(সুরা মায়িদা: ৩২)
বর্তমান সমাজে অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্য, রোগ ও সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অনেক সময় সামান্য দানই হতে পারে কারও বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয়। ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—দান করলে সম্পদ কমে না, বরং বরকত বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সদকা কখনো সম্পদ কমায় না।” —(সহিহ মুসলিম)।
রমজান তাই শুধু আত্মসংযমের মাস নয়, বরং মানবতার ডাকে সাড়া দেওয়ার মাস। এই পবিত্র সময়ে আপনার দান যদি একটি জীবন বাঁচাতে পারে—তাহলে তাতে ক্ষতি কী? বরং এ দানই হতে পারে আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তির কারণ।
এফএস