আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে বাবা-ছেলেসহ চাঞ্চল্যকর চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি দুটি হত্যা মামলায় মোট ১২৩ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (০১ মার্চ) দুপুরে মুঠোফোনে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া মামলার ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নিহত ওসিবুর ফকিরের বাবা ওসমান ফকির বাদী হয়ে ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ মামলায় এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ভাতিজা ফেরদৌস শেখ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ (৩২) বাদী হয়ে সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়েরসহ ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়ের গ্রুপ ও খলিল মোল্লার গ্রুপের মধ্যে এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরির পর খায়ের গ্রুপের লোকজন বড়কুলা গ্রামে খলিলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ভাতিজা ফেরদৌস শেখ নিহত হন। অপরদিকে সংঘর্ষে আহত সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়ের গ্রুপের সদস্য ওসিবুর ফকিরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরদিন মঙ্গলবার নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ভাতিজা ফেরদৌস শেখের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সিংগাশোলপুর বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন করা হয়। অপরদিকে সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়ের গ্রুপের সদস্য ওসিবুর ফকিরকে তারাপুরে দাফন করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া মুঠোফোনে জানান,“বড়কুলা গ্রামের চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করেছে। ইতিমধ্যে ১৩ জন নাম উল্লেখ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেফতার এড়াতে অনেক পুরুষ গ্রাম ছেড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এসআর