পবিত্র মাহে রমজানের ত্যাগ ও সংযমের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন মরিশাস প্রবাসী যুবক আকাশ মিয়া। নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার ২৫টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রায় তিন সহস্রাধিক রোজাদারের মাঝে উন্নতমানের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আলফাডাঙ্গা ও কাশিয়ানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে এই ইফতার পৌঁছে দেওয়া হয়।
আকাশ মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবাসে থাকলেও শেকড়ের টানে ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে প্রতি বছরই তিনি বড় পরিসরে এমন আয়োজন করে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ ময়দানে দিনব্যাপী বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে দক্ষ বাবুর্চি দিয়ে মানসম্মত ইফতার তৈরি করা হয়। পরে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে তা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশাল এই আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিশাস প্রবাসী আকাশ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। করোনাকালীন সংকট থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি শত শত হতদরিদ্র পরিবারকে প্রতিমাসে চাল সহায়তা দিয়ে আসছেন। এছাড়া এলাকার ১০০টি মসজিদ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নেও তিনি সরাসরি অবদান রাখছেন। প্রতি ঈদে দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘর নির্মাণ করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন এ যুবক। প্রতিমাসে এলাকার ছয়টি এতিমখানায় প্রয়োজনীয় চাল সরবরাহ করেন তিনি।
আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রফিক মিয়া বলেন, "প্রতিবারের ন্যায় এবারও আকাশ মিয়ার উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার রোজাদারের কাছে ইফতার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ।"
আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক সানোয়ার মিয়া বলেন, "মানুষ মানুষের জন্য—এই মূলমন্ত্র নিয়ে আকাশ মিয়া যেভাবে নিঃস্বার্থ সেবা দিচ্ছেন তা বর্তমান সময়ে বিরল। তিনি অসহায় মানুষের পরম বন্ধু।"
মুঠোফোনে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে আকাশ মিয়া বলেন, "পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রোজাদারদের জন্য এই ক্ষুদ্র আয়োজন করেছি। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, তাই মানুষের সেবা করেই আমি আত্মতৃপ্তি পাই। আমৃত্যু আমি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।"
এলাকাবাসী ও সুধীজন প্রবাসী যুবকের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এসআর